নটরডেম, ঢাকা সিটি, ভিকারুননিসা ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ © টিডিসি সম্পাদিত
এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হলো আজ। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতিও শুরু হলো। পছন্দের কলেজ নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের কাছে কলেজেগুলোর ফলাফল, শিক্ষার পরিবেশ, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এজন্য প্রয়োজন কলেজগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য।
শিক্ষাবিষয়ক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘সহপাঠী’ ঢাকা বিভাগের শীর্ষ ২০টি কলেজের তালিকায় সুনির্দিষ্ট তথ্য এসেছে। এতে ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব ফলাফলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা, উত্তীর্ণের সংখ্যা, জিপিএ ৫ অর্জন এবং ফলাফলের ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিচের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণের চিত্র শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কলেজ নির্বাচনে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে।
শীর্ষে নটর ডেম কলেজ
রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত নটর ডেম কলেজ দেশের অন্যতম খ্যাতনামা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ক্যাথলিক মিশনারিদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নটর ডেম কলেজ সাধারণ একাদশ শ্রেণির কেন্দ্রীয় ভর্তি ব্যবস্থার পরিবর্তে নিজস্ব ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।
ঢাকা বিভাগের র্যাংকিংয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে নটর ডেম কলেজ। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির ৪৮ হাজার ৭৭৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৪৮ হাজার ৪৮৬ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭৪১ জন। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি উত্তীর্ণ ও সর্বোচ্চ ফল অর্জনের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে।
বিপুল শিক্ষার্থী নিয়েও এগিয়ে ঢাকা সিটি কলেজ
ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত ঢাকা সিটি কলেজ ঢাকার একটি পরিচিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। উচ্চমাধ্যমিকের পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়েও এখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ঢাকা সিটি কলেজে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ৪৮ হাজার ৮৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। উত্তীর্ণ হন ৪৮ হাজার ৩৮৪ জন এবং জিপিএ ৫ অর্জন করেন ২১ হাজার ২৬২ জন। পরীক্ষার্থী ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকেও এটি তালিকার অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান।
জিপিএ-৫ অর্জনে ধারাবাহিক সাফল্য ভিকারুননিসার
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঢাকার বেইলি রোডে অবস্থিত দেশের অন্যতম পরিচিত নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মূল ক্যাম্পাসের পাশাপাশি ধানমন্ডি, আজিমপুর ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির শাখা রয়েছে। এখানে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ৩০ হাজার ৬৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩০ হাজার ৪২৬ জন; জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৮ হাজার ৬৭১ জন।
সাফল্যের ধারা অটুট মাইলস্টোন কলেজে
মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ বাংলাদেশের ঢাকা শহরের উত্তরায় অবস্থিত একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২০০২ সালে মাইলস্টোন কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে কেজি থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাদান করা হয়। মাইলস্টোন কলেজ জাতীয় শিক্ষাক্রমের অধীনে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বাংলা এবং ইংরেজি উভয় মাধ্যমেই শিক্ষাদান করে থাকে।
মাইলস্টোন কলেজে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ৩৮ হাজার ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭ হাজার ৯২০ জন উত্তীর্ণ এবং ১৬ হাজার ৪৬৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন।
শৃঙ্খলা ও ফলাফলে এগিয়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ
ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ দেশের পরিচিত ক্যান্টনমেন্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। শৃঙ্খলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও একাডেমিক পরিবেশের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত।
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত থেকে ২৯ হাজার ৮৯২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৯ হাজার ৭৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২০ হাজার ১০৪ জন। মোট পরীক্ষার্থীর তুলনায় জিপিএ ৫ অর্জনকারীর সংখ্যাও প্রতিষ্ঠানটির ভালো ফলাফলের দিকটিও তুলে ধরে।
প্রায় সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে
রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ঢাকার অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে পাঠদান করা হয়। বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি ইংরেজি ভার্সনেও শিক্ষার সুযোগ রয়েছে।
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২৩ হাজার ২৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ হাজার ২৩৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৭ হাজার ৪৭০ জন। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষার্থী ও উত্তীর্ণের সংখ্যার ব্যবধান খুবই কম।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ
পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের অভ্যন্তরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের পূর্বনাম ছিল রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এটি ঢাকার অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও এখানে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ থেকে একই বছরগুলো মিলিয়ে ২৫ হাজার ৫৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ হাজার ৪৫২ জন উত্তীর্ণ এবং ১৩ হাজার ৫১৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন।
ধারাবাহিক সাফল্য হলি ক্রস কলেজের
ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত হলি ক্রস কলেজ একটি খ্যাতনামা ক্যাথলিক নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হলি ক্রস সিস্টার্সের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কলেজে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে।
হলি ক্রস কলেজে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ২০ হাজার ৮৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০ হাজার ৮১৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১২ হাজার ৯১৯ জন।
বাণিজ্য শিক্ষায় এগিয়ে ঢাকা কমার্স কলেজ
মিরপুরে অবস্থিত ঢাকা কমার্স কলেজ বাণিজ্য শিক্ষার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি উচ্চমাধ্যমিকের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ঢাকা কমার্স কলেজে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই সময়ে ৩৯ হাজার ৫২৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। উত্তীর্ণ হন ৩৯ হাজার ৩০৬ জন এবং জিপিএ পান ৯ হাজার ১১০ জন।
ঐতিহ্যের সঙ্গে সুনামও অক্ষুণ্ন ঢাকা কলেজের
ঢাকা কলেজ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত এই কলেজে উচ্চমাধ্যমিকের পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়েও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
একাদশে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের পছন্দের প্রথম সারির তালিকায় রয়েছে ঢাকা কলেজ। কারণ ঢাকা কলেজে ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের সুনাম ধরে রেখেছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৮ হাজার ৭৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ হাজার ৪৮৬ জন উত্তীর্ণ এবং ১১ হাজার ৫০৭ জন জিপিএ৫ পেয়েছেন।
জিপিএ ৫- এ এগিয়ে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বাংলাদেশের ঢাকা শহরে অবস্থিত একটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি আইডিয়াল হাই স্কুল (স্কুলটির পূর্ব নাম) বা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল নামেও পরিচিত। ১৯৬৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি মতিঝিলে তার যাত্রা শুরু করে। মূলত তখন এটি তৎকালীন সিজিএস কলোনি (যা বর্তমানে এজিবি কলোনি নামে পরিচিত) এর নিবাসীদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য তৈরি হয়। বর্তমানে এর তিনটি মাধ্যমিক শাখা ও একটি উচ্চমাধ্যমিক শাখা (বালিকা) রয়েছে।
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঢাকায় ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে২১ হাজার ২৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ হাজার ৮২ জন উত্তীর্ণ এবং ১০ হাজার ১১৩ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন।
পাসের হারে এগিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ কলেজ
পিলখানায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ একটি পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিজিবি-সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিচালিত হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যও এখানে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ বিজিবি কলেজে ২০০৯–২০২৫ সময়ে ২৬ হাজার ১৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ হাজার ৮৭৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৯৪ জন।
নবীন তবু মানে এগিয়ে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিভাগে পাঠদান করা হয়।
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে ২০১২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৪টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করা হয়েছে। এ সময়ে ২১ হাজার ৪৪১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন, উত্তীর্ণ হন ২১ হাজার ৪০৫ জন এবং জিপিএ ৫ পান ১১ হাজার ১১৪ জন।
শৃঙ্খলায় থেকেও ভালো ফল বিএএফ শাহীন কলেজে
বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বিএএফএসডি বা ঢাকা শাহীন নামেও পরিচিত। ১৯৬০ সালের ১ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনী (বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী) কর্তৃক এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এর আওতাধীন এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত।
এই কলেজটি মূলত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সন্তান ও পোষ্যদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এখানে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ পায়। এখানে শিশু শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ দান করানো হয়।
বিএএফ শাহীন কলেজ, ঢাকায় ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ২৪ হাজার ৩৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ হাজার ৮৯৪ জন উত্তীর্ণ এবং ৮ হাজার ৫৮৩ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন।
আবাসিক শিক্ষার ঐতিহ্যে সাফল্য ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ
ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ দেশের অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিতে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও আবাসিক ব্যবস্থার জন্যও প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত।
ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ১৪ হাজার ২০৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৪ হাজার ১৮২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৭৪ জন।
বিজ্ঞান শিক্ষার ঐতিহ্য অক্ষুন্ন সরকারি বিজ্ঞান কলেজে
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত সরকারি বিজ্ঞান কলেজ বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এটি একটি সরকারি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়।
সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ২০ হাজার ৬৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ হাজার ৭৫১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৫৫ জন।
শহীদ বীর উত্তম আনোয়ার গার্লস’ স্কুল অ্যান্ড কলেজ
ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ একটি পরিচিত নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত।
শহীদ বীর উত্তম আনোয়ার গার্লস’ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ১৬ হাজার ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ হাজার ৯২৭ জন উত্তীর্ণ এবং ৬ হাজার ৭৭৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন।
প্রায় সব পরীক্ষার্থী পাস শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে
ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ একটি পরিচিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ১১ হাজার ৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ হাজার ৮০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৭ হাজার ১৫৬ জন।
সন্তোষজনক পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা ইমপেরিয়াল কলেজ
ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা কলেজের বিপরীতে নিউ মার্কেট এলাকায় এর অবস্থান ছিল। পরে তারা রামপুরা আফতাবনগর (জহুরুল ইসলাম সিটি) তে নিজেদের ক্যাম্পাসে স্থাপন করে।
ঢাকা ইমপেরিয়াল কলেজে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ১৯ হাজার ৯৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ হাজার ৭২৬ জন উত্তীর্ণ এবং ৩ হাজার ৩৬৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন।
ঢাকার বাইরেও ভালোমানের দুই কলেজ
ঢাকা বিভাগের তালিকায় রাজধানীর বাইরের দুটি কলেজও জায়গা করে নিয়েছে।
নরসিংদী সরকারি কলেজ
নরসিংদী সদর উপজেলার পশ্চিম ব্রাহ্মন্দীতে ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ অক্টোবর ‘নরসিংদী কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কলেজটিতে সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর বিষয়ে পাঠদান করে হয়ে থাকে। এর উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা - তিনটি শাখায় পাঠদান করা হয়। এই কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধিভুক্ত। কলেজটির প্রথম কার্যালয় ছিল সাটিরপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (বর্তমানে নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়)। ১৯৫৫ সালে এটি নিজস্ব স্থানে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৮০ সালে এর সরকারিকরণ হয়।
নরসিংদী সরকারি কলেজে ২০০৯–২০২৫ সময়ে ৩৫ হাজার ৯৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ হাজার ৪২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ২ হাজার ৯৩৭ জন জিপিএ৫ পেয়েছেন।
আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ
'মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশন' ও থার্মেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জনাব আবদুল কাদির মোল্লা ২০০৬ সালে নরসিংদীতে নিজ নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে নরসিংদী জেলা সদরের বাসাইলে এটি অবস্থিত। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় চারবার শতভাগ পাসসহ ২০০৯ সালে ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম ও সারা দেশে ষষ্ঠ, ২০১০ সালে জেলার সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২০১১ সালে ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় সপ্তম ও শত ভাগ পাসে চতুর্থ স্থান দখল করে।
নরসিংদীর আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজে ১২ হাজার ৬১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ হাজার ৬০১ জন উত্তীর্ণ এবং ৮ হাজার ৫৫০ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন।
জিপিএ ৫ এর আধিক্য নয়, ধারাবাহিক ভালো ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ
এই তালিকার তথ্য দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে শুধু জিপিএ ৫-এর সংখ্যা দিয়ে কলেজের অবস্থান নির্ধারিত হয়নি।
উদাহরণ : নরসিংদী সরকারি কলেজে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হলেও জিপিএ ৫-এর সংখ্যা তুলনামূলক কম। আবার, আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী ১২ হাজার ৬১১ জন হলেও উত্তীর্ণ হয়েছেন ১২ হাজার ৬০১ জন এবং জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৮ হাজার ৫৫০ জন। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, উত্তীর্ণের হার ও জিপিএ ৫ পাওয়ার হার এমন সবগুলো সূচক মিলিয়েই দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্সের চিত্র পাওয়া যায়।
সহপাঠী প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, তাদের র্যাংকিংয়ে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল থেকে পাসের হার, জিপিএ ৫-এর হার ও অকৃতকার্যের হার বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষার র্যাংকিংয়ের গড়ের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। ফলে এটি কোনো ‘সেরা কলেজ’ তালিকা নয়, বরং পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলভিত্তিক একটি বেসরকারি র্যাংকিং।
যেসব দিকে নজর দিতে হবে
একাদশে ভর্তির সময় তাই শুধু র্যাংকিং নয়, শিক্ষার্থীর পছন্দের বিভাগ, বিষয়, আসনসংখ্যা, যাতায়াত, শিক্ষার পরিবেশ, খরচ এবং কলেজের সাম্প্রতিক ফলাফলও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল একটি কলেজের ধারাবাহিক একাডেমিক সক্ষমতার ধারণা দিতে পারে, তবে একাদশে ভর্তির সিদ্ধান্তের একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত নয়।