নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চমক দেখাল যবিপ্রবি, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করল ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৮ PM , আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৮ PM
সোলার থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ দিয়ে জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)

সোলার থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ দিয়ে জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) © টিডিসি ফটো

দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুফটপ সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। সুপারস্টার রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের সঙ্গে যবিপ্রবির এক চুক্তির আওতায় এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বর্তমানে সোলার সিস্টেমের প্রায় ৮০ শতাংশ সোলার প্যানেল চালু করা হয়েছে, যা আগামী মাসে শতভাগে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অংশ হিসেবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে যবিপ্রবি ও সুপারস্টার রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। জুলাই বিপ্লবের পর এক পর্যায়ে রুফটপ সোলার সিস্টেমের কাজ থেমে গেলেও পরবর্তীতে যবিপ্রবি ও কোম্পানির তৎপরতায় পুনরায় কাজ শুরু হয়। এর ফলে গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে জাতীয় গ্রিডে স্বল্প পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সোলার সিস্টেম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে যবিপ্রবির নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে, পরে অবশিষ্ট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সোলার সিস্টেম থেকে নিজস্ব ব্যবহারের পরও ৫৬ হাজার ৯৬৫ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে যবিপ্রবির প্রায় ২৬.৬ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রায় ১.৫ লক্ষ বর্গফুট জায়গাজুড়ে স্থাপিত রুফটপ সোলার সিস্টেম থেকে প্রতি বর্গমিটার হিসেবে ২ টাকা হারে ভাড়া পাবে যবিপ্রবি। ফলে ভাড়া বাবদও প্রতিষ্ঠানটি বছরে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অর্জন করছে।

আরও জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবন চালু থাকায় যবিপ্রবির বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ২ মেগাওয়াট। পুরো সোলার সিস্টেম চালু হলে জাতীয় গ্রিড থেকে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয়ের প্রায় ২৬ শতাংশ সাশ্রয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান জ্বালানি সংকটে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এ বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে যবিপ্রবি একটি চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির মাধ্যমে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭০–৮০ শতাংশ সোলার সিস্টেম চালু হয়েছে। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে পুরো সিস্টেম চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন যদি আরও বড় হতো, তাহলে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতো। এটি সম্পূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর উদ্যোগ।’

এটি যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানি একইসাথে জ্বালানির এই সংকটকালীন সময়ে এটি হতে পারে আশার প্রদীপ।  দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যবিপ্রবির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করে তা ব্যবহার করলে সেটি যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে চাকরি, আবেদন…
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
একদিনেই দুই সুখবর পেলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ম্যানেজার পুলিশি হ…
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ইবতেদায়ী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড নিয়ে যা বললেন সচিব
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
শনাক্ত করা যাচ্ছে না পুড়ে যাওয়া ১০ মরদেহ, লাপাত্তা রিসোর্ট …
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন ৩ ডিসেম্বর
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬