বার্ষিক প্রতিবেদনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গোঁজামিল’!

২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:৫১ PM
শহীদ মিনার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শহীদ মিনার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

নেই আর্থিক প্রতিবেদন, আপডেট তথ্য। পাওয়া যায়নি শিক্ষকদের গবেষণা কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য। এমনকি প্রকাশিত তথ্যও মিলছে না বিভাগের ব্যক্তির তথ্যের সাথে। এভাবেই ‘গোঁজামিল’ দিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারায় প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না। প্রতিবেদন একটি দলিল হলেও এটিকে ‘নামমাত্র প্রতিবেদন’ হিসেবেই দেখছেন তারা।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের। পূর্বের প্রতিবেদনগুলোতে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের বিস্তারিত আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হলেও এবারের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি কোন হিসাব। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয়; তাতে শিক্ষকরা কখন গবেষণা জমা দিয়েছেন বা এখনও কতজন দেননি- সে বিষয়েও নেই তথ্য। বার্ষিক প্রতিবেদনে তথ্য নেই শিক্ষকদের ধারাবাহিক গবেষণারও। বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শতাধিক শিক্ষকের মধ্যে মাত্র গবেষণা আছে ৭ জনের।

কলা অনুষদের চিত্রও একই। দুই শতাধিক শিক্ষকের মাত্র ১৬ শতাংশ শিক্ষকের গবেষণা আছে বলে উল্লেখ করেছে বার্ষিক প্রতিবেদন। তবে অনুষদগুলোর শিক্ষকদের দাবি, অনেকে গবেষণা করছেন, কিন্তু সেগুলো জমা দেওয়া হচ্ছে না।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শাহ আজম দাবি করেন, ‘বছরে একাধিক গবেষণা পাবলিকেশন হয়েছে, এমন শিক্ষকও আছেন। সে সম্পর্কিত তথ্য আমাদের কাছে আছে। কিন্তু জমা না দেওয়ার কারণে তথ্যগুলো বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে আসে না।’

কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. ফজলুল হক বলেন, ‘আমার দেখা অনেক শিক্ষক আছেন যারা নিয়মিত গবেষণা করেন। বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য আসলে যে সঠিক তথ্য সেটি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’ তার অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগগুলোর অনেক সভা, সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন কো-কারিকুলার কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকে। যেহেতু বার্ষিক প্রতিবেদন একটি দলিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করার প্রশ্ন; তখন এ সম্পর্কিত তথ্যও সেখানে উল্লেখ করা যেতে পারে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গেলে প্রতিবছরই তথ্য-সংগ্রহের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। জানা যায়, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রতিবেদনের জন্য জুলাই মাসে তথ্য দেওয়ার জন্য বিভাগভিত্তিক নোটিশ দেওয়া হলেও ডিসেম্বরের শুরুর দিকে তথ্য দিয়েছে কিছু কিছু বিভাগ। এমনও হয়েছে যে, ৪ থেকে ৫ বার নোটিশ দেওয়া হলেই কেবল তথ্য পাওয়া যায়। সর্বশেষ যে তথ্য পাওয়া যায়, সে তথ্য দিয়েই বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে কমিটি।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ কমিটির সদস্য সচিব সাদেকুল ইসলাম বলেন, আমার দায়িত্ব বিভাগ থেকে যে তথ্য দেবে; সেই তথ্য নিয়ে আসা ও সম্পাদনা করা। একাডেমিক কোন বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার আমার নেই।

সার্বিক বিষয়ে ‘বার্ষিক প্রতিবেদন’ প্রকাশ কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ‘আমরা নিয়মিত ও তথ্যবহুল বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের চেষ্টা করছি। তবে বিভাগে তথ্য চেয়ে ৪ থেকে ৫ বার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও তারা তথ্য দেয় না। এতে যে তথ্য সর্বশেষ পাওয়া যায় সে তথ্য দিয়েই প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’ ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক প্রতিবেদন আগামী জানুয়ারি মাসে সকলের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উপ-উপাচার্য।

 

আমি যে কারণে বিএনপিতে যেতে চাই
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
চ্যাটজিপিটি দিয়ে লেখা প্রেমের চিঠি যেভাবে ব্রেকআপের কারণ হত…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সিইউএফএল-কাফকোর পর এবার ডিএপি সার কারখানাও বন্ধ
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
আমি নাকি ছোটবেলায় রুকাইয়া জাহান না লিখে ‘রুকাইয়া রহমান’ লিখ…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
মিরপুরে ১০৭ বছরের পুরোনো গাবতলী মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা ক্র…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬