চ্যাটজিপিটি দিয়ে লেখা প্রেমের চিঠি যেভাবে ব্রেকআপের কারণ হতে পারে

১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ AM , আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৬ AM
এআই দিয়ে তৈরি ছবি

এআই দিয়ে তৈরি ছবি © সংগৃহীত

রাত তখন বেশ গভীর। ঘড়ির কাঁটা তখন দুই ছুঁই ছুঁই। তখন সায়নীর ফোনে টুং করে একটা লম্বা মেসেজ ঢুকল। রাহুল মেসেজ করেছে। গত সন্ধ্যায় তাদের মধ্যে হেব্বি ঝামেলা হয়েছে। সম্পর্কটা প্রায় ভাঙতেই বসেছিল। এমন সময় বয়ফ্রেন্ডের মেসেজ পেয়ে সায়নী বেশ খুশিই হয়েছিল। তবে মেসেজ খুলতেই সায়নীর চক্ষু চড়ক গাছ। বয়ফ্রেন্ডের মেসেজটা একেবারে নিখুঁত।

সে খেয়াল করে, প্রতিটি কমা, ফুলস্টপ, সেমিকোলন এবং ব্যাকরণে একদম ‘পারফেক্ট’। অথচ তার প্রেমিক চিরকালই টাইপিংয়ের ক্ষেত্রে অগোছালো। যে মানুষ ‘you’ লিখতে গিয়ে ‘u’ লেখে বা বানান ভুল করে, তার এমন হঠাৎ ‘পারফেক্ট’ হয়ে ওঠাটা সায়নীর মনে আনন্দের বদলে বিরক্তির ডেকে আনে। তার মনে হলো, এই শব্দগুলো তো তার প্রেমিকের নয়, বরং এআই-এর কারসাজি। সায়নী বুঝে গিয়েছে তার বয়ফ্রেন্ড চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে মেসেজ পাঠিয়েছে।

এই অভিজ্ঞতা শুধু সায়নীর নয়। সাম্প্রতিক এ রকমই এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন নয়ডার ৩২ বছর বয়সি এক স্কুল শিক্ষিকা। যখন তিনি দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের ইতি টানলেন, তার পিছনে কোনও তৃতীয় ব্যক্তি বা বড় ঝগড়া ছিল না। কারণটা ছিল একটা এআই নির্ভর টেক্সট মেসেজ।

বর্তমানে আধুনিক ডেটিং জগতে এক নতুন শব্দ যোগ হয়েছে—‘AI ick’। অর্থাৎ, যখন কেউ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য এআই এর সাহায্য নেয়, তখন অনেকের কাছে সেটি আকর্ষণ হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলির মধ্যে একটি হলো ‘অথেন্টিসিটি’—নিজের মতো করে, নিজের ভাষায় অনুভূতি প্রকাশ করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের দিনে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘এফর্ট’ বা চেষ্টাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যখন নিজের অনুভূতি নিজে প্রকাশ না করে AI-এর মাধ্যমে সাজিয়ে-গুছিয়ে পাঠায়, তখন সেটি অনেকের কাছে ‘লো এফর্ট’ বা কৃত্রিম মনে হতে পারে। কারণ, তখন প্রশ্নটা ওঠে—আমি কি তার সঙ্গে কথা বলছি, নাকি কোনও মেশিন ভার্সনের সঙ্গে? এই সন্দেহ থেকেই তৈরি হয় দূরত্ব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই ব্যবহার করে মনের কথা জানানো অনেক সময় উল্টো ফল বয়ে আনে। তারা আরও জানান, যখন কেউ নিজের আবেগ প্রকাশের দায়িত্ব AI-এর হাতে ছেড়ে দেয়, তখন সঙ্গীর মনে হতে পারে ভালোবাসা লোক দেখানো। বিশেষ করে লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপে, যেখানে টেক্সট মেসেজই হলো কথা চালাচালির প্রধান মাধ্যম, সেখানে এআই এর নিখুঁত ভাষা আসল অনুভূতিকে আড়াল করে দেয়।

কিন্তু কোন কারণে তারা এআই এর সাহায্য নেন, তা দেখা প্রয়োজন। অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা নিজেদের অনুভূতি ঠিক ভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। লজ্জা, ভয় বা দ্বিধার কারণে তারা সঠিক শব্দ খুঁজে পান না। সেই জায়গায় এআই তাদের সাহায্য করতে পারে—ভাবনাগুলিকে গুছিয়ে লিখতে, আবেগকে পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে বলতে। কিন্তু অসুবিধা তখনই হয় যখন সবটাই এআই-নির্ভর হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এআই-এর লেখা বড্ড বেশি সাজানো-গোছানো। এতে সেই ভুলচুক ভরা আদুরে টান থাকে না, যা কেবল প্রিয় মানুষের থেকেই আশা করা যায়। ডেট প্ল্যান করা থেকে ফ্লার্ট করা, সব কিছুর জন্য এআই-এর উপর নির্ভর করাকে অনেকে ‘লো এফোর্ট’ বা দায়সারা মনোভাব হিসেবে দেখেন।

তাই বলে কি আপনার সঙ্গী  এআই ব্যবহার করলেই সম্পর্ক ভেঙে দেবেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটেই না। বরং দেখা উচিত মেসেজে লেখা কথাগুলির সঙ্গে মানুষটির বাস্তবে আদৌও মিল আছে কি না। আন্তরিকতায় যদি তার ঘাটতি না থাকে, তবে শুধু নিখুঁত টেক্সটের জন্য ব্যক্তিকে বিচার করা ঠিক হবে না।

হয়তো সেই নয়ডার প্রেমিকের উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না। তিনি হয়তো চেয়েছিলেন শেষবার চেষ্টা করে দেখতে, যাতে সম্পর্ক না ভাঙে। সকিন্তু দিনশেষে প্রেম ব্যাকরণ মেনে চলে না। প্রেম স্থায়ী হয় মানুষের নিজস্ব অগোছালো অনুভূতিতে, রোবটের লেখা নিখুঁত গদ্যে নয়।

সংবাদসূত্র: এই সময় 

দেশের একাধিক জেলায় বজ্রবৃষ্টির  সম্ভাবনা
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
পে-স্কেল ও জাতীয়করণসহ ১০ দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কর্মসূ…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের গলা কাটা লাশ, সবশেষ যা জা…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
জবির বাসে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নিন্দা
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
দেড় বছরেও মেরামত হয়নি কবি নজরুল কলেজের জানালার ভাঙা কাচ
  • ১২ আগস্ট ২০২৬