যোগ্য শিক্ষক থাকলেও ‘ভাড়া করা’ সভাপতি দিয়ে চলছে ইবির ৩ বিভাগ

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৬ AM
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ফটো

বিভাগীয় সভাপতি হওয়ার যোগ্য শিক্ষক থাকলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে ‘ভাড়া করা’ সভাপতি দিয়ে। এতে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স মানা হচ্ছে না, তেমনি দিন দিন বাড়ছে বিভাগের আভ্যন্তরীণ সংকট। জটিলতা নিরসনে দ্রুত নিজ বিভাগ থেকেই সভাপতি নিয়োগের দাবি সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে ইবির ফার্মেসী বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহা. মিজানুর রহমান, চারুকলা বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান এবং কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান। 

এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সংশোধিত অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, কোনো বিভাগে একাধিক শিক্ষক থাকলে পদমর্যাদা ও চাকরিকালের ভিত্তিতে সিনিয়র শিক্ষককেই সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ন্যূনতম সহকারী অধ্যাপক হলে বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এছাড়া একই পদমর্যাদার ক্ষেত্রে চাকরিকালের দৈর্ঘ্য বিবেচনা এবং তাতেও সমতা থাকলে নিয়োগের সময় যার নাম আগে এসেছে, তাকেই সিনিয়র হিসেবে গণ্য করার নিয়ম আছে অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী। 

তবে, ইবির ওই ৩টি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে একাধিক শিক্ষক কর্মরত থাকলেও নিয়মানুযায়ী বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না তারা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে উক্ত তিনটি বিভাগের সভাপতি পদে রদবদল আনে প্রশাসন। ওই সময় বিভাগে  বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মতো কোন সহকারী অধ্যাপক ছিলেন না। বাধ্য হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এসব বিভাগের সভাপতি হিসেবে পদায়ন করা হয়। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রভাষক পদে কর্মরত শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক না হওয়া পর্যন্ত অন্য বিভাগের শিক্ষক দিয়ে বিভাগ চালিয়ে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: পিএইচডি করা অধ্যাপক মন্ত্রীর পিএস কেন, প্রশ্ন ঢাবি শিক্ষকের

কিন্তু বর্তমানে প্রতিটি বিভাগেই সহকারী অধ্যাপক পদে একাধিক শিক্ষক কর্মরত থাকলেও নিয়মানুযায়ী বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া, নিয়মানুযায়ী প্রভাষক পদে যোগদানের দিন থেকে চাকরির বয়স ৩ বছর হলে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু এসব বিভাগের শিক্ষকদের পদোন্নতিও দীর্ঘদিন অজানা কারণে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। 

চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন ফকির এবং ইমতিয়াজ আহমেদ প্রভাষক পদে যোগদান করেছিলেন ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী। গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারী তাদের যোগদানের ৩ বছর পূর্ণ হলেও তাদের পদোন্নতি হয়নি। পরবর্তীতে অক্টোবরে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকদের আপগ্রেডিং বোর্ড অনুষ্ঠিত এবং সিন্ডিকেটে অনুমোদন হলেও অজানা কারণে শুধু চারুকলা বিভাগের শিক্ষকদের আপগ্রেডিং বোর্ড আটকে যায়। বারংবার প্রশাসনকে অবহিত করার পর অবশেষে এ বছরের ২১ জানুয়ারি আপগ্রেডিং বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় এবং ৩০ জানুয়ারীর সিন্ডিকেটে অনুমোদন দেওয়া হয়।  

অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী বিভাগ গুলোতে সভাপতি নিয়োগের বিষয়টি প্রশাসনের আমলে আছে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার নেতৃত্বে থাকায় ঈদের ছুটির পর এ নিয়ে কোনো কার্যক্রম হয়নি। তবে শীঘ্রই প্রশাসন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ইবি

এছাড়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক তন্ময় সাহা জয় এবং উজ্জ্বল হোসেনের প্রভাষক হিসেবে যোগদানের ৩ বছর পূর্ণ হয় গেল বছরের ১২ অক্টোবর। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে যায় তাদের প্রাপ্য পদোন্নতি। প্রায় সাড়ে ৩ মাস পর গত ২৫ জানুয়ারি তাদের আপগ্রেডিং বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় যা পরবর্তীতে ৩০ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে, সহকারী অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও চারুকলা কিংবা জার্নালিজম বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়নি পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের। 

আর পদোন্নতি কেন্দ্রিক সমস্যা না থাকলেও বিভাগীয় জটিলতায় আটকে আছে ফার্মেসী বিভাগের সভাপতি পদে রদবদল। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অর্ঘ্য প্রসূন সরকার সভাপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ করার পর পরবর্তীতে থাকা শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষা ছুটিতে ছিলেন। ফলে যোগ্য শিক্ষক না থাকায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মিজানুর রহমান। তবে সম্প্রতি শিক্ষা ছুটি শেষে বিভাগে যোগদান করেছেন সহকারী অধ্যাপক মাসুদ রানা ও মিলন কুমার ঘোষ। এর পরপরই নিজ বিভাগ থেকে বিভাগীয় সভাপতি নিয়োগের ব্যাপারে প্রশাসনের সাথে কথা বলেন তারা। তবে এখন পর্যন্ত উক্ত তিন বিভাগের কোন বিভাগেই নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি পদে নিয়োগ হয়নি। 

এদিকে, নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি না থাকায় বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। সিলেবাস সম্পর্কে ধারণা না থাকা, বিভাগের প্রয়োজন সম্পর্কে না জানা, শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা সম্পর্কে বুঝতে না পারা, বিভাগে সময় না দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে কাছে না পাওয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। 

আরও পড়ুন: স্কুল, কলেজ-মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবৃত্তি দ্বিগুণ করছে সরকার

সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্য বিভাগে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করা শিক্ষক হুট করেই তাদের বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় আভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হচ্ছে। চারুকলা বিভাগে গত চার বছরে তিনজন সভাপতি এসেছেন। প্রতিবার নতুন নতুন সভাপতিদের সিলেবাস বোঝানো, বিভাগের অবস্থা জানানো, শিক্ষার্থীদের চাহিদা বোঝাতে বোঝাতে লম্বা একটা সময় চলে গেছে। বর্তমানে বিভাগটিতে তীব্র সেশনজট বিরাজমান। 

একইধরনের অভিযোগ অন্যান্য বিভাগের ক্ষেত্রেও। নিজ নিজ বিভাগে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকায় এসব বিভাগে সময় কম দেন বিভাগীয় সভাপতিরা। এতে কোন প্রয়োজনে বিভাগীয় সভাপতির সুপারিশ বা স্বাক্ষর পেতে দুই থেকে তিনদিন সময় লেগে যায়। নিয়মিত বিভাগে না আসায় কিংবা এলেও ব্যস্ততার কারণে অল্প সময় অবস্থান করেই চলে যাওয়ায় বিভাগীয় পরীক্ষা কমিটির কাজ, ফলাফল প্রস্তুতকরণ সহ অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হয় যা বিভাগের শিক্ষার পরিবেশে প্রভাব ফেলে। স্ব স্ব বিভাগের শিক্ষকরা সভাপতি পদে থাকলে এসব জটিলতা হতো না বলে মত শিক্ষার্থীদের। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ইতিপূর্বে ভিসি স্যারের সাথে নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের বিষয়ে কথা বলেছিলেন। তাদের বিষয়টি ভিন্ন। আর অন্য দুই বিভাগের ক্ষেত্রে, গত ৩০ জানুয়ারির সিন্ডিকেটে ওই বিভাগের শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়েছেন। অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী বিভাগ গুলোতে সভাপতি নিয়োগের বিষয়টি প্রশাসনের আমলে আছে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার নেতৃত্বে থাকায় ঈদের ছুটির পর এ নিয়ে কোনো কার্যক্রম হয়নি। তবে শীঘ্রই প্রশাসন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। 

অনার্স ৪র্থ বর্ষের ফল পুনঃমূল্যায়ন আবেদন শুরু, করবেন যেভাবে
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যে ৭ অভ্যাস ফুসফুসের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঘুমের সময় কি কমিয়ে ফেলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে যে প্রভাব পড়তে পারে…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পে কমিশনের প্রস্তাব কাটছাঁট করে নতুন পে-স্কেল অনুমোদন, যেমন…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পরকীয়ার জেরে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা, এক মাস পর রহস্য উদ…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘চোরেদের গ্রাম’ থেকে উঠে এসে মেডিকেলে চান্স পেলেন প্রতিবন্ধ…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9