দাবি আব্দুল মালেকের
প্রতীকী ছবি © টিডিসি সম্পাদিত
দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন পে স্কেল না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আব্দুল মালেক।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে একান্ত আলাপে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, এক দশক আগের বেতন দিয়েই এখনো সংসার চালাতে হচ্ছে, অথচ একই সময়ে দ্রব্যমূল্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
আব্দুল মালেক বলেন, গত ছয় থেকে সাতটি ঈদ ও কোরবানির ঈদ সরকারি কর্মচারীরা স্বাভাবিকভাবে উদযাপন করতে পারেননি। কারণ এক দশক আগে যে বেতন ও বোনাস পাওয়া যেত, এখনো প্রায় একই পরিমাণ বোনাস দেওয়া হচ্ছে। একজন কর্মচারী যদি ৮ হাজার ২০০ টাকা বা তার চেয়ে সামান্য বেশি বোনাস পান, তাহলে সেই টাকা দিয়ে পরিবার চালানো সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ কর্মচারী ঋণে জর্জরিত এবং প্রতি মাসেই ঋণের বোঝা বাড়ছে। একজন কর্মচারী যে বেতন পান, তা দিয়ে মাসের ১০ থেকে ১৫ দিনও ঠিকভাবে চলা যায় না। এরপর বাকি দিনগুলোতে ধারদেনা করে চলতে হয় এবং মাস শেষে আবার ঋণের বোঝা বেড়ে যায়। সেই কারণে ঈদের বোনাস হাতে পেলেও কর্মচারীদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই টাকা দিয়ে খাবার কিনবেন, নাকি পরিবারের জন্য কাপড় কিনবেন। ফলে সাধারণ কর্মচারীদের জন্য ঈদ এখন আর আনন্দ বয়ে আনে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আব্দুল মালেক বলেন, আমরা জানুয়ারি ২৬ থেকেই এটি বাস্তবায়ন চাই। কেননা ১১ বছর ধরে আমরা বঞ্চিত। এর মধ্যে ২০১৫ সালের পর ২০২০ সালে পে স্কেল হওয়ার কথা ছিল, ২০২৫ সালেও হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে গেছেন, তারা এই গ্র্যাচুইটি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
‘সবচেয়ে বড় কথা হলো, ২০২৬ সালের জানুয়ারির দিকে এবং তার আগে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে গেছেন, এখন যদি জুনের বাজেটে পে স্কেলের গেজেট না হয় বা বরাদ্দ রেখে এটি বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে তারাও এই গ্র্যাচুইটি বা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। আর যদি এই বরাদ্দ রেখে জুনের বাজেটেই পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, তাহলে কর্মচারীদের মনে এই ক্ষোভ আর থাকবে না।’