পুলিশের টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ © টিডিসি ফটো
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালুর প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের সোনারগাঁও হোটেলের মোড়ে অবস্থানরত ব্যবসায়ীদের ওপর লাঠিচার্জ ও জলকামান নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করেছে পুলিশ। বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে জড়ো হয়ে সড়কে পরিবারসহ অবস্থান নিলে দুপুর ১২ টার দিকে লাঠিচার্জ ও জলকামান দিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরে যেতে বাধ্য করে পুলিশ।
এরপর ব্যবসায়ী সেখান থেকে সরে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে অবস্থান করেন। পুলিশ সেখানে ফের টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পালটা ধাওয়া হচ্ছে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যা আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে ব্যবসায়ীর জড়ো হয়ে রাস্তায় নামার আগেই পুলিশের হাতে আটক বেশ কয়েকজন। এরপর সোনারগাঁও হোটেলের মোড়ে কয়েকশ ব্যবসায়ী অবস্থান নেন।
গত বৃহস্পতিবার থেকে হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে এনইআইআর কার্যকর করা হয়। এনইআইআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে মোবাইল ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। সরকারের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অবৈধভাবে কর ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের, ক্লোনড এবং ব্যবহৃত ফোন দেশের বাজারে সরবরাহ করছে। কর ফাঁকি রোধ এবং অবৈধ ও নিম্নমানের হ্যান্ডসেট আমদানি বন্ধ করতে সরকার এনইআইআর পদ্ধতি চালু করেছে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের নেটওয়ার্কে যেসব মুঠোফোন চালু হয়েছে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজিস্ট্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া অবিক্রীত ফোনের তালিকাও রেজিস্টার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুধু নতুন চালু হওয়া হ্যান্ডসেটগুলোই এনইআইআর-এর আওতায় আসবে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক করা হবে না। প্রবাসীরা ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি দুইটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। নিবন্ধনের জন্য তাঁদের তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে, এই সময়ে হ্যান্ডসেটগুলো সচল থাকবে। ভ্রমণ সংক্রান্ত নথিপত্র দেখিয়ে ফোনগুলো নিবন্ধন করা যাবে।