প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো
দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দক্ষতা ও সৃজনশীলতার অভাব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০২২ সালে শিক্ষার্থীদের শিখনফল হ্রাস পেয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার সংকট কেবল সম্পদ বা অর্থের নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক পরিকল্পনার। ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে শিক্ষাকে শুধু ‘সার্টিফিকেট’ অর্জনের মাধ্যম নয়, ‘ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং’ এবং দক্ষতা উন্নয়নের বাহন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, শিক্ষার মান হ্রাসের অন্যতম কারণ হলো বিনিয়োগের অভাব। ইউনেসকোর সুপারিশ অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪-৬ শতাংশ বরাদ্দের কথা থাকলেও বাংলাদেশে তা বর্তমানে মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ, প্রকৃত ব্যয় মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এর সঙ্গে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে সুশাসনের অভাবও যুক্ত।
শ্রেণিকক্ষে পাঠদান উন্নত না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা দিন দিন গাইড বই ও প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা তাদের সৃজনশীলতা হ্রাস করছে। এই সমস্যা সমাধানে সরকার আগামী ছয় মাসের মধ্যে কোচিং নিয়ন্ত্রণে পাইলট প্রকল্প চালানোর পরিকল্পনা করছে।
সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করে বলেন, যদি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা না যায়, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষাকে রাজনৈতিক এজেন্ডারের বাইরে রেখে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি। এছাড়া শিক্ষাকে সংবিধানে নাগরিকের প্রয়োগযোগ্য অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠারও দাবি তোলা হয়েছে।