ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্র, ইনসেটে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত © টিডিসি সম্পাদিত
ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচ উপভোগ করতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এসেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. হাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন।
স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি সহ নরওয়ের দূতাবাসের কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে জানানো হয়েছে।
সোমবার মধ্যরাত ২টায় ব্রাজিল ও নরওয়ের ম্যাচ উপভোগ করতে রাষ্ট্রদূত ও তাঁর সফরসঙ্গীরা ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছেছেন। ম্যাচ শুরুর আগে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন এবং ক্যাম্পাসের ফুটবলমুখর পরিবেশ ঘুরে দেখবেন।
ম্যাচ উপভোগের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ আল্লাইয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের ম্যাচগুলোতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ফুটবলপ্রেমী দর্শক। প্রিয় দলের জার্সি, পতাকা, ব্যানার ও সমর্থকদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। খেলার প্রতিটি মুহূর্তে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ও আবেগ ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্যালারি জুড়ে।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ফুটবল উন্মাদনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের প্রতিটি ম্যাচ ঘিরে শিক্ষার্থীদের উদযাপনের বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতির প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগ্রহ সৃষ্টি করে।
জানা গেছে, ফক্স সকার, ইএসপিএন এফসি, মার্কা, টিওয়াইসি স্পোর্টস, দিয়ারিও ওলে এবং জনপ্রিয় ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ও সাংবাদিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের ফুটবল উদযাপনের ভিডিও নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এ ছাড়া ব্রাজিলের তারকা নেইমার জুনিয়রের প্রতিক্রিয়া, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্যাফোডিলের ব্রাজিল সমর্থকদের ভিডিও শেয়ার এবং ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীদের উদযাপনের দৃশ্য প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও ব্যাপক আলোচনায় আসে।
এর আগে রবিবার (২৯ জুন) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের মধ্যকার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ উপভোগ করতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. হাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন ক্যাম্পাসে আসার আগে এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় ড্যাফোডিলিয়ানদের উদ্দেশে বলেন, ‘হ্যালো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। আমি বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত। আজ রাতে নরওয়ে এবং ব্রাজিলের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচটি উপভোগ করতে আমি আপনাদের কাছে আসছি। আমি চাই, আমরা সবাই মিলে ভাইকিংদের মতো ‘নৌকা বাইচ’ (Viking Row) উদযাপনের ভঙ্গিতে আনন্দ করি। আপনারা নরওয়েকে সমর্থন করতে পারেন কিংবা ব্রাজিলকে সেটি কোনো বড় বিষয় নয়। আমার বিশ্বাস, সবাই মিলে একসঙ্গে ম্যাচটি উপভোগ করাটাই সবচেয়ে দারুণ হবে। তাহলে প্রস্তুত তো? রো... রো... রো...। আজ রাতে দেখা হচ্ছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ‘বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের মাননীয় রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. হাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্রাজিল বনাম নরওয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচটি উপভোগ করবেন। আপনি যে দলকেই সমর্থন করুন না কেন, দুই দলের সমর্থকদের সঙ্গে ফুটবলের এই উত্তেজনা, উন্মাদনা ও ক্রীড়াসুলভ চেতনা একসঙ্গে উদযাপন করতে চলে আসুন।’
শিক্ষার্থীদের মতে, রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ড্যাফোডিলের ফুটবল উদযাপনের ধারাবাহিক আলোচনায় আসা বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাদের ভাষ্য, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়; এটি ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করার এক বৈশ্বিক ভাষা।