ইবাইস-আমেরিকা বাংলাদেশের পর তিন লাল তারকা ইইউবিকে
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ © টিডিসি সম্পাদিত
তিনটি গুরুতর অনিয়ম ও শর্ত লঙ্ঘনের কারণে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) নামের পাশে তিনটি লাল তারকা (***) চিহ্ন বসিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এই চিহ্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুধু তাই নয়, এমন সতর্কবার্তার পরও না শুধরালে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা এমনকি বন্ধের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত আসতে পারে বলছে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ইউরোপিয়ান ছাড়াও তিনটি লাল তারকা (***) পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইবাইস ইউনিভার্সিটি, দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা এবং আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি। বর্তমানে এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়কেই ‘ব্লাক লিস্টেড’ করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে তদারক প্রতিষ্ঠান তথা ইউজিসি। যদিও ইউজিসির এমন সিদ্ধান্তের পরও উল্টো পথে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বলছে, ইউজিসির এই সতর্কবার্তার নেপথ্যে রয়েছে তৃতীয় কোনো পক্ষ।
গত ১৪ মে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূইয়া এক প্রজ্ঞাপনে এই তিন লাল তারকা চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এদিকে ইউজিসির এমন চিঠিতে উদ্বিগ্ন হয়েয়ে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। চিন্তার ভাঁজ শিক্ষাজীবন শেষ করা এমনকি ভবিষ্যতের চাকরি-বাকরি নিয়েও।
ইউজিসির প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ তিনটি কারণ হচ্ছে— বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) এর মালিকানা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব ও মামলা চলমান থাকা, বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন অনুমোদিত আসন সংখ্যার অতিরিক্ত আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ও কমিশনের নির্দেশনা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ১১ ধারা অনুযায়ী ১২ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও নির্ধারিত পরিমাণের কম জমিতে নির্মিত ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। ইউজিসি মনে করছে, বর্তমানে সীমিত ও অপ্রতুল জায়গায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করায় মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
কমিশন সূত্র বলছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি করার ক্ষেত্রে অবশ্যই ইউজিসি’র থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হয়। শিক্ষক সংখ্যা ও ল্যাব সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়াদি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের জন্য শিক্ষার্থী ভর্তির সর্বোচ্চ আসন সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয় কমিশন। সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে অনুমোদিত আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করলে তা সম্পূর্ণরূপে বেআইনি ও অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। অতিরিক্ত ভর্তি হওয়া এসব শিক্ষার্থীর সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
ইউরোপিয়ান ছাড়াও তিনটি লাল তারকা (***) পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইবাইস ইউনিভার্সিটি, দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা এবং আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি। বর্তমানে এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়কেই ‘ব্লাক লিস্টেড’ করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে তদারক প্র্রতিষ্ঠান তথা ইউজিসি।
তবে দুই দিনের মাথায় গত শনিবার (১৬ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগকে ‘উড়িয়ে’ দেয় ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর মেজর (অব.) আমিনুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউজিসির আদেশটি এমন সময়ে প্রচারিত হয়েছে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) দ্বন্দ্ব ও মামলার অবসান হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উত্তরোত্তর সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে কোন তৃতীয় পক্ষ নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে ভুল বুঝিয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাস্টি বোর্ডের ‘বৈধতা’ প্রশ্নে বাবা-ছেলের দ্বন্দ্বে ডুবতে বসেছে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি
ওই বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি বর্ণিত তিনটি কারণের জবাব উপস্থাপন করা হয়। ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির বক্তব্য হচ্ছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সংক্রান্ত কোন দ্বন্দ্ব এবং মামলা চলমান নেই। একই সাথে অতিরিক্ত আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি ইতোমধ্যে ব্যাখ্যা ও প্রতিবেদনসহ ইউজিসিতে বিবেচনার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এর বাইরে নির্ধারিত জমি ক্রয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। তবে ঊধ্বমুখী সম্প্রসারণের (Vertical Extension) মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ভবনে বিস্তৃত পরিসর সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এতে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের স্থান সংক্রান্ত কাম্য মাত্রা বজায় আছে— এমন দাবিও করা হয়েছে।
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের দ্বন্দ্ব দুই বছরের পুরোনো। এখানে দ্বন্দ্ব বাবা-ছেলের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ওই বছরের ২৬ অক্টোবর পদত্যাগ করেন ট্রাস্টি বোর্ডের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মকবুল আহমেদ খান। এরপর পদটিতে আসীন হন তারই ছেলে আহমেদ ফরহাদ খান তানিম।
আরও পড়ুন: বাবা-ছেলের দ্বন্দ্বে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে উত্তেজনা, বন্ধ ঘোষণা
কিন্তু ফরহাদ খান, তার ভায়রা ও একদল স্বার্থান্বেষী মহল মিলে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দখল করেছেন এবং অবৈধভাবে নিয়মের তোয়াক্কা না করে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন প্রফেসর মকবুল আহমেদ খান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তানিম নিজের নামে লিখে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। এমনকি বিষয়টি মামলা-মোকদ্দমায়ও গড়ায়।
আদালত থেকে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাবা-ছেলে আদালতকে বলেছেন যে তাদের আর কোনো বিভেদ নাই। এভাবেই এটির নিষ্পত্তি হয়েছে— অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মরতুজা, উপাচার্য, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি বলছে, এ দ্বন্দ্ব মিটেছে। একই সঙ্গে মামলাও নিষ্পত্তি হয়েছে। এমনকি দুই পক্ষ এখন কাজ করছে একই সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিষয়টি নিয়ে গত ২৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মকবুল আহমেদ খান, বিওটি চেয়ারম্যান আহমেদ ফরহাদ খান, উপাচার্য ড. মো. গোলাম মরতুজাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে বৈঠকে বসেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উত্থাপন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়টিকে সম্ভাব্য সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
জানা গেছে, সভায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের ডা. কে এম বাবর আলী ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী উপস্থিত ছিলেন। তবে দ্বন্দ্বের প্রকৃত মীমাংসা এবং মামলার নিষ্পত্তি কিভাবে হয়েছে এবং মালিকানা সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তন এসেছে কিনা— এমন কোনো তথ্য জানানো হয়নি বিজ্ঞপ্তিতে।
আরও পড়ুন: তিন কারণে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নামের পাশে ইউজিসির লাল তারকা
ইউজিসির এই প্রজ্ঞাপন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নিয়ে ধোয়াশায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তিন লাল তারকা চিহ্নিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হয় কিনা— এমন শঙ্কাও দেখছেন তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বাবা-মা নিজের সম্বল বিক্রি করে, ধার-দেনা করে আমাদের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন। দিন-রাত এক করে আমরাও পড়াশোনা করছি। কিন্তু ইউজিসের লাল তালিকাভুক্ত করায় আমরা শঙ্কার মধ্যে পড়ে গেছি। অনেক রকম কথাই শুনছি। কেউ কেউ বলছে আমাদের সার্টিফিকেটের কোনো মূল্য নেই। আসলেই এরকম হলে আমাদের পুরো ভবিষ্যৎই তো অন্ধকারের মুখে পড়ে যাবে।
অপর এক শিক্ষার্থী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার কারণে যদি ইউজিসি এই লাল তারকা দিয়ে থাকে, তবে সেটা দ্রুত সমাধান করা উচিত। কারণ এর খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদেরকে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইউজিসির শর্তগুলো পূরণ করে এই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠুক, যাতে আমাদের সার্টিফিকেটের বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকে।
ইউজিসির প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মরতুজা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, আদালত থেকে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাবা-ছেলে আদালতকে বলেছেন যে তাদের আর কোনো বিভেদ নাই। এভাবেই এটির নিষ্পত্তি হয়েছে।
অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এত বড় ভবনে, এত বড় ক্লাসরুমে মাত্র ৩০ জন নিয়ে কিভাবে ক্লাস হবে? অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এর থেকে কম স্পেস নিয়ে বেশি ছাত্র আছে। আমাদের এত বড় স্পেস, এই বিষয়ে অনেকবার বলা হয়েছে ইউজিসিকে। এখন আমরা এত বড় ভবন নির্মাণ করলাম, এত কম শিক্ষার্থী যদি নেই, তাহলে যে ভবন করেছে তার লস হবে। আবার বাংলাদেশের যে দক্ষ জনশক্তি উৎপাদন করতে হবে, এটা কি বন্ধ করে দিব? আমরা কম পয়সায় উন্নত মানের শিক্ষা দেই।
বিওটির দ্বন্দ্ব মিটেছে কিনা— আমরা অফিশিয়ালি জানি না। আমাদের কাছে কোনো স্বচ্ছ তথ্য নেই। ভর্তি নীতিমালা ও ইউজিসি আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি বলেন, নীতিমালা এবং আইন অনুযায়ীই হতে হবে। আইন অনুযায়ী ঢাকা শহরের ভেতর বিশ্ববিদ্যালয় হতে তিন একর জমি লাগে। তারা যদি ভার্টিক্যাল এক্সটেনশন দিয়ে এটাকে জাস্টিফাই করতে চান, সেটা ওনাদের ব্যাপার— প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সদস্য, ইউজিসি
নিজস্ব জমির প্রসঙ্গে তিনি উপাচার্য বলেন, আমরা এই জমিতে ভার্টিক্যাল একটেনশন করছি। ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করছি। পৃথিবীর অনেক বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম রয়েছে। ঢাকা শহরে জমি পাওয়া যায় না। এখন আমরা কি ঢাকার বাইরে যাব? সেখানে গরিব ছেলেরা গিয়ে পড়তে পারবে?
ইউজিসিকে ভুল বোঝানো ‘তৃতীয় পক্ষ’ কারা, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমি কেমনে বলব? এটা ইউজিসি জানে। এমনকি ইউজিসি আমাদেরকে আত্মপক্ষ সমর্থ করার সুযোগও দেয়নি। নোটিশ দিয়ে দিয়েছে।
তবে ইউজিসি বলছে, ট্রাস্টি বোর্ডের দ্বন্দ্ব নিরসনের বিষয়ে কোনো তথ্য নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি জানে না। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে ইউজিসির আইন ও নীতিমালাই চূড়ান্ত। এ ছাড়া ইউজিসির একটি সূত্র বলছে, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে যেন অভিযোগের অন্ত নেই। বিওটির দ্বন্দ্ব, শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব, স্থায়ী ক্যাম্পাস সংকট, শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিওটির দ্বন্দ্ব মিটেছে কিনা— আমরা অফিশিয়ালি জানি না। আমাদের কাছে কোনো স্বচ্ছ তথ্য নেই।
ভর্তি নীতিমালা ও ইউজিসি আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি বলেন, নীতিমালা এবং আইন অনুযায়ীই হতে হবে। আইন অনুযায়ী ঢাকা শহরের ভেতর বিশ্ববিদ্যালয় হতে তিন একর জমি লাগে। তারা যদি ভার্টিক্যাল এক্সটেনশন দিয়ে এটাকে জাস্টিফাই করতে চান, সেটা ওনাদের ব্যাপার। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বিবেচনা করবেন।
আসন ৪০, ভর্তি ৯০০; আগেও জালিয়াতি ছিল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির এমন লাল তারকার অভিজ্ঞাতা নতুন নয়। ২০২১ সালের জুলাইয়েও অনুমোদন ছাড়া প্রোগ্রাম ও কোর্স পরিচালনা এবং অনুমোদিত আসন সংখ্যার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করায় প্রতিষ্ঠানটিকে লাল তারকাভুক্ত করে ইউজিসি। ওই সময়েও লাল তারকা চিহ্নিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হতে পরামর্শ দিয়েছিল কমিশন।
সে সময়ে একটি প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকে ‘ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ: অনুমোদিত আসন ৪০ ভর্তি হয়েছে ৯০০’ শীর্ষক সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে সেমিস্টার প্রতি ভর্তির আসন সংখ্যা ৪০। যদিও গত শিক্ষাবর্ষে শুধু এক সেমিস্টারেই বিভাগটিতে নয় শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, অধিকাংশ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে অনুমোদিত আসনের কয়েক গুণ বেশি। এর মধ্যে গত শিক্ষাবর্ষের স্প্রিংয়ে বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইইই) ৩৫টি আসনের বিপরীতে ৫৮৪ জন, বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩০টি আসনের বিপরীতে ২৩৯, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩০টি আসনের বিপরীতে ১৪৩ ও ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (বিবিএ) ৫০টি আসনের বিপরীতে ৯৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি।