আইইউবিএটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে © সংগৃহীত
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পথিকৃৎ এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)-এর প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১০ মে) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
১৯৪২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার কৈলাইন গ্রামে জন্মগ্রহণকারী অধ্যাপক মিয়ান ২০১৭ সালের ১০ মে ইন্তেকাল করেন। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা প্রবর্তনের মাধ্যমে তিনি এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবিএটি।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অধ্যাপক মিয়ানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় আইইউবিএটি পরিবারের সদস্যরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।
পরে অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানের জীবন ও কর্ম নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রব, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মমতাজুর রহমান এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহিদ হোসেন, পিএইচডি (অব.)। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা অধ্যাপক মিয়ানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, শিক্ষা উন্নয়নে তাঁর অসামান্য অবদান এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, তাঁর আদর্শ, মূল্যবোধ ও কর্মদর্শন আজও আইইউবিএটি পরিবারকে শিক্ষা ও জাতীয় সেবায় উৎকর্ষ সাধনে অনুপ্রাণিত করছে।
অধ্যাপক মিয়ানের শিক্ষা ও পেশাগত জীবন ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বর্ণাঢ্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে বিকম (অনার্স) এবং ১৯৬৩ সালে এমকম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি (১৯৬৮) এবং যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার স্কুল অব বিজনেস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি (১৯৭৬) অর্জন করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি দীর্ঘ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এ শিক্ষক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি সেন্টার ফর পপুলেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ (সিপিএমআর)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। শিক্ষক, গবেষক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নকর্মী হিসেবে তিনি ১৯৬৩ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি নাইজেরিয়ার আহমাদু বেলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আইইউবিএটি ক্যাম্পাসে দোয়া মাহফিল, স্মৃতিচারণ ও তাঁর জীবন ও কর্মের উপর উন্মুক্ত আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।