প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষর জাল করে মন্ত্রণালয়ে চিঠির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫ জন, পরে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় (ইনসেটে সিএমএম আদালত) © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারি ব্যক্তিদের নাম, পরিচয়, সিল, স্বাক্ষর ব্যবহার করে জাল নথি তৈরি এবং প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ৬ আসামির সাত দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
রিমান্ডের আদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন— ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম, বকুল মন্ডল ও রফিকুল ইসলাম
গত ৭ আগস্ট মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের উপ-পরিদর্শক মো. সামিম সরদার। ওইদিন আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন বুধবার।
এদিন তাদেরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আসামিদের পক্ষে একাধিক আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নাম ও খাম ব্যবহার করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি খামে সাত পাতার ডকুমেন্ট পাঠানো হয়। সেই খামে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সংবলিত ডকুমেন্টস ছিল।
নথিগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে পাঠানো হয়। সেই চিঠির সূত্র ধরে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া নথি তৈরির বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড জাল করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।
এরপর মাদারীপুরের কালকিনি থানা এলাকা এবং কুষ্টিয়া থেকে আসামি ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম, বকুল মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় গত ৫ আগস্ট ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক রায়হানুর রহমান বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পরদিন ঢাকার মতিঝিলের ফকিরাপুল থেকে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। আসামিদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রী-এমপিদের সিল ও সাক্ষর সম্বলিত লেটারহেড প্যাড জব্দ করা হয়েছে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।