আনিকা তাবাসসুম অদ্রিতা © সংগৃহীত
জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক স্বীকৃতি প্ল্যাটফর্ম 3rd Human Harmony Award 2025-এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম অদ্রিতা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নেপালের কাঠমুন্ডুতে অনুষ্ঠিত 3rd Human Harmony Award 2025-এর আন্তর্জাতিক আয়োজনটি একটি জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক স্বীকৃতি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মানব উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখা পরিবর্তনসাধকদের সম্মাননা প্রদান করে থাকে। বিশ্বের ২০টিরও বেশি বৈশ্বিক ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত সেরা উদ্ভাবকদের মধ্য থেকে আনিকা তাবাসসুম অদ্রিতা এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেন।
আনিকা তাবাসসুম অদ্রিতার উদ্ভাবনী স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প ‘MedOS Healthcare Operating System’-এর জন্য এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারে তিনি সম্মানিত হন। MedOS একটি এআই-চালিত ডিজিটাল হেলথকেয়ার প্ল্যাটফর্ম, যা হাতে লেখা প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসা পরামর্শকে এআই-ভিত্তিক মেডিক্যাল ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে নিরাপদ ও গঠনতান্ত্রিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ডে রূপান্তর করে। এতে ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও ব্লকচেইন-ভিত্তিক ডাটা ইন্টিগ্রিটি ব্যবস্থার সমন্বয়ে রোগীর তথ্যের নিরাপত্তা ও মালিকানা নিশ্চিত করা হয়।এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রোগীর আজীবন স্বাস্থ্য প্রোফাইল সংরক্ষণ, প্রাথমিক উপসর্গ শনাক্তকরণ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য পরামর্শ, মেডিক্যাল রিপোর্ট সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা, স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থার সহজীকরণ এবং সহজ, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভরভাবে স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে।
আনিকা তাবাসসুম অদ্রিতার উদ্ভাবন সরাসরি জাতিসংঘের SDG 3 (Good Health and Well-being) অর্জনে ভূমিকা রাখছে এবং পাশাপাশি SDG 9 (Industry, Innovation and Infrastructure) ও SDG 10 (Reduced Inequalities) লক্ষ্য পূরণেও সহায়ক অবদান রাখছে।
আনিকা তাবাসসুম অদ্রিতা বাংলাদেশের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তার পড়াশোনা শেষ করেন। বর্তমানে তিনি একজন এআই গবেষক হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা খাতে মানবকেন্দ্রিক প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষাজীবনে আনিকা এসএসসি সম্পন্ন করেন সৃষ্টি একাডেমিক স্কুল এবং এইচএসসি সম্পন্ন করেন মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান কলেজ থেকে।
আনিকার এই সাফল্যের পেছনের অনুপ্রেরণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কে বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার বাবা। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে।’
এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং নারীদের নেতৃত্বে প্রযুক্তি গবেষণার বৈশ্বিক অগ্রযাত্রাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।