সাদা টি-শার্ট পরিহিত মাহী বি চৌধুরীর ছেলে আরাজ © সংগৃহীত
রাজধানীর বনানীতে ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টকে মারধরের অভিযোগে বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীর ছেলে আরাজ বি চৌধুরীকে আটক করেছে বনানী থানা পুলিশ। গতকাল বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোও অভিযোগ করেছে পুলিশ।
মারধরের শিকার হওয়া ট্রাফিক পুলিশের সহকারী নগর উপপরিদর্শক (অ্যাসিস্ট্যান্ট টাউন সাব-ইন্সপেক্টর) মো. আলমগীর জানান, বনানী কবরস্থান রোডে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন আরাজ। তার গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ ২৮-০৮৩৬। গাড়িটি একটি সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। অটোরিকশাটি আলমগীরের পায়ে আঘাত করে। এরপর ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা মাহী বি চৌধুরীর ছেলেকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আরাজ বি চৌধুরী। তার সঙ্গে আরেকজন যুবকও ছিলেন। দুজন গাড়ি থেকে নেমে ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আলমগীরকে মারধর করেন।
মো. আলমগীর বলেন, তার শার্টের কলার ধরে টান দেয়া হয়েছে। তার শার্টের বোতাম ছিঁড়ে গেছে।
মারধরের ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীরা মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও করতে গেলে আরাজ চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘স্টপ ভিডিও, স্টপ ভিডিও। তুমি জানো আমি কে? হু ইজ মাই ড্যাড? আমি মাহী বি চৌধুরীর ছেলে।’
অবস্থা বেগতিক দেখে আরাজ ও তার সঙ্গীকে পুলিশ বক্সে নিয়ে যায় ট্রাফিক পুলিশ। পুলিশ বক্সে নিয়ে যাওয়ার সময় ভিডিও করা ওই প্রত্যক্ষদর্শীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন আরাজের ওই সঙ্গী। তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ বক্সে নেয়ার পরও বেপরোয়া আচরণ করেন আরাজ। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আমাকে টাচ করবা না। আমার বাবা আসছে। আমার বাবার সঙ্গে কথা হচ্ছে।’
ভিডিও করায় প্রাণনাশের হুমকিও দেন আরাজ। পুলিশ বক্সের ভেতরে থাকা অবস্থাতেই তিনি বলতে থাকেন, ‘ইউ উইল ডাই, ইউ উইল ডাই।’
এক পর্যায়ে পুলিশ এসে আরাজ ও তার সঙ্গীকে বনানী থানায় নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু, আরাজ যেতে অস্বীকৃতি জানান। সেসময় ঘটনাস্থলে আসেন বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব ও আরাজের বাবা মাহী বি চৌধুরী। তিনিসহ সবাই মিলে তখন বনানী থানায় যান।
বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আযম মিয়া বাংলাদেশ বলেন, যে সার্জেন্ট ভুক্তভোগী তিনি কোন অভিযোগ না করায় ছেলেটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব হয়নি। আটক হওয়া আরাজ বি চৌধুরীর গাড়ি চালানোর কোন লাইসেন্স ছিল কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারে নাই এই ওসি।