প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
আগামী অর্থবছরের বাজেটে ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধবিমানের জন্য কয়েক ১০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। মূলত ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সরঞ্জামগুলোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এই বাড়তি অর্থের আবেদন করা হয়েছে। এর ফলে রেকর্ড পরিমাণ সামরিক বাজেট পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০২৭ সালের বাজেটে প্রতিরক্ষা ব্যয় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পেন্টাগন ড্রোন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে ব্যয় তিনগুণ বাড়িয়ে ৭৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি করতে চায়। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদ খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার মজুদ ইরান যুদ্ধের কারণে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি এবং কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট থ্রি সাংবাদিকদের জানান, এই ব্যয়ের নীলনকশাটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতের আগেই তৈরি করা হয়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, গোলাবারুদ বা যুদ্ধাস্ত্রের মজুদ বাড়ানো সবসময়ই তাদের অগ্রাধিকার। তবে এই বাজেটে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সরাসরি কোনো অপারেশনাল খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি; যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত তহবিলের আবেদন হোয়াইট হাউসের মূল প্রতিরক্ষা বাজেটের বাইরে আলাদাভাবে জানানো হবে।
সরকারি ব্যয় কমানো এবং ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই লক্ষ্যে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ককে একটি বিশেষ উদ্যোগের নেতৃত্বে নিয়ে আসেন, যার ফলে প্রায় ৩ লাখ মানুষ সরকারি চাকরি হারান। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বেড়েই চলেছে।
ব্যয় বাড়ানোর কারণে ঘাটতি নিয়ে নতুন অর্থবছর শুরু করতে হবে ট্রাম্পকে, যেটির পরিমাণও বেশ বড়। দেশটির নির্দলীয় ‘কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১.৮৫৩ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ৮৫ হাজার ৩০০ কোটি) ডলারে, যা গত বছরের ১.৭৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি