প্রশ্ন এমপি শামীম কায়সারের
এমপি শামীম কায়সার লিংকন © সংগৃহীত
বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ‘যন্তরমন্তর ঘরের’ মাধ্যমে রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার হয়ে বের হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা— সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন এমপি শামীম কায়সার লিংকন।
এমপি শামীম কায়সার লিংকন বলেন, বিগত ১৭ বছরে আমাদের এই গুম-খুন-আয়নাঘরের পাশাপাশি আরেকটা ঘর ছিল। এটা হল হীরকরাজার দেশের যন্তরমন্তর ঘরের মতো একটা ঘর ছিল। হীরকরাজার দেশে যেমন কৃষকদের যন্তরমন্তর ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হত। এরপর বের হওয়ার পর যে মন্ত্র শিখিয়ে দেওয়া হত তারা সেটিই বলত। তেমনিভাবে আমার এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা, আমি প্রমাণসহ দিতে পারব— এমনও হয়েছে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কেউ চিনত না, রাজাকার হিসেবেও চিনত না। কিন্তু ২০০৮ সালের পর তাকে রাজাকার বানানো চেষ্টা করা হয়েছে। আবার অনেকে সত্যিকার রাজাকার ছিলেন। কোনো এক অজানা কারণে তারা গ্রেপ্তার হওয়ার পরে কিছুদিন পর দেখা গেছে তারা মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বের হয়েছেন
তিনি বলেন, আপসে যখন সমঝোতা হয়ে যায়, রাজাকারও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বের হয়ে যেত ওই মেশিনের মাধ্যমে, আবার মুক্তিযোদ্ধা আপস না করলে রাজাকার হিসেবে বের হতেন। এই যে ১৭ বছরে ফ্যাসিস্টের আমলে যন্তরমন্তর ঘরের মাধ্যমে যেসব রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন এবং মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা?
প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, অমুক্তিযোদ্ধা যারা বিভিন্নভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তাদের ব্যাপারে আমরা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কাজ করছি। এ ধরনের মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের চাকরি এবং তাদের অবৈধ সুবিধা নিয়ে কাজ করছি। আশা করি, অল্প দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে এর সংখ্যাও বলতে পারব।