শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ © টিডিসি ফটো
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, যেসব জায়গায় আমার প্রতিপক্ষ কেন্দ্র দখল করে ভোট চুরির চেষ্টা করেছিল, সেখানে প্রথমে আমাদের কর্মীবাহিনী তা থামানোর চেষ্টা করে। পরে আর্মড ফোর্সেস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তভাবে তাদের প্রতিহত করে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই কিছু জায়গায় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়।’
আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে সহিংস ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সহমর্মিতা জানাতে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছিলাম নির্বাচনের দিন আমরা কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়াব না, কোনো ভোটকেন্দ্র দখলের প্রয়োজন নেই। আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে আমরা জয়ী হবো। আর জয়ী না হলেও আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। গণতন্ত্রবিরোধী কোনো কাজ করা যাবে না এ বিষয়ে আমি সবাইকে সতর্ক করেছি। এমনকি কারও বিরুদ্ধে যদি প্রকৃত প্রমাণ পাই যে সে আগ বাড়িয়ে কোনো সহিংসতায় জড়িয়েছে বা কেন্দ্র দখল কিংবা অরাজকতার চেষ্টা করেছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি হাইকমান্ডের সঙ্গে কথা বলে তাকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেব।’
‘এই ছিল আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা। আমাদের নেতাকর্মীরা কোথাও কোনো অরাজকতা সৃষ্টি করেনি। কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষ প্রার্থী নিজেই বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছে। এতে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।’
আরও পড়ুন: রাজধানীতে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ৪ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আপনাদের প্রেস কনফারেন্সে দেখেছি আমাদের এক নেতা একটি কেন্দ্রে এতটাই আহত হয়েছেন তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। প্রধান প্রতিপক্ষের কর্মীবাহিনী তাকে নির্মমভাবে আহত করেছে। আমরা কোনোভাবেই আইনি বিচার ছাড়া এ ঘটনা ছেড়ে দেব না।’
তিনি বলেন, ‘এখানে উপস্থিত অনেকেই আহত হয়েছেন কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, কেউ কিছুটা সুস্থ হয়ে এক্স-রে রিপোর্টসহ এসেছেন। কার কার হাড় ভেঙেছে, কীভাবে আহত হয়েছেন সব রিপোর্ট আমাদের কাছে রয়েছে। অনেকেই এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমাদের ত্যাগী নেতা, হাজারীবাগের হায়দার আলী সাহেব এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তার স্ত্রী ও কনিষ্ঠ সন্তান এখানে উপস্থিত আছেন। তাদের বর্তমান অবস্থা আপনাদের সামনে তুলে ধরতেই আমরা এখানে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, আজ এখান থেকে বেরিয়ে প্রত্যেকটি ঘটনার বিষয়ে আইনি মামলা করা হবে। প্রতিটি থানায় মামলা দায়ের করা হবে। যেসব কেন্দ্রে প্রতিপক্ষ প্রার্থী নিজে উপস্থিত থেকে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, তাকে অন্তত হুকুমের আসামি করা হবে। হায়দার আলী সাহেবের ওপর হামলার ঘটনাটি স্পষ্টতই হত্যাচেষ্টার শামিল; এ মামলাতেও তাকে হুকুমের আসামি করা হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা শুধু আইনের বিচার চাই। আমরা সরকারে আছি, চাইলে অনেক কিছু করতে পারি। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো কিছু করব না। তাই আপনাদের সামনে সব পরিষ্কারভাবে জানিয়ে, আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে, আমরা মামলাগুলো দায়ের করব।