নোয়াখালী থেকে বিএনপির ৫ বিজয়ী এমপি © টিডিসি সম্পাদিত
বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী জেলা থেকে নতুন মন্ত্রিসভায় কাউকে স্থান না দেওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিজয় পাওয়ার পরও নোয়াখালী থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা চলছে।
অবহেলিত এই জনপদের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে এবং জেলার সম্ভাবনাময় নদী অঞ্চলে ইকোনমিক জোন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের আশায় অর্ধশতাধিক প্রার্থীর মধ্যে ভোটাররা বেচে নিয়েছেন বিএনপিকে। তাই এখানে মন্ত্রীত্ব না পা-ওয়ায় মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নেতাকর্মীদের দাবি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো ভাগ করে নোয়াখালী থেকে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ৫ বারের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান ও সাবেক বিরোধী দলীয় চীপ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুককে মন্ত্রী করা হোক। এছাড়াও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকেও মন্ত্রী চায় নোয়াখালীবাসী।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিপরিষদ শপথ নেওয়ার পর বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা তাদের প্রতিক্রিয়া জানান। তাদের বেশির ভাগই বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীতে ভালো ফল করেছে বিএনপি। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয় পেয়েছে। এ কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধারণা জন্মায় এবার জেলার নির্বাচিতদের মধ্য থেকে দু–একজন মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই পেতে পারেন। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি শেষ পর্যন্ত।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন কবে, কীভাবে—আলোচনায় কারা?
গতকাল সোমবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোয়াখালীর একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের পর থেকে বিগত আওয়ামী লীগের আমলে হওয়া তিনটি একতরফার নির্বাচন ছাড়া বাকি সব কটি নির্বাচনেই জেলার বেশির ভাগ সংসদীয় আসন ছিল বিএনপির দখলে, বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে যখন বিএনপির ভরাডুবি হয়, তখনো নোয়াখালীর ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পায় বিএনপি। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জিতেন বিএনপির প্রার্থীরা। একটি আসনে (নোয়াখালী-৬) বিএনপির প্রার্থী হেরেছেন মূলত দলের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এবং দলের মধ্যে অনৈক্যের কারণে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, ‘হৃদয়টা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। আমাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। এখানকার নেতা–কর্মীদের অনেক ত্যাগ। তাই একটা সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। আশায় ছিলাম, আমাদের জেলা থেকে মন্ত্রী করা হবে, কিন্তু সেটি হলো না।’
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হন। তারা হলেন নোয়াখালী-১ আসনে নির্বাচিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিষ্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ আসনে জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনে নির্বাচিত হোন জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হোন মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। একমাত্র নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হন এনসিপির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের কাছে।
নোয়াখালীতে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক। এ ছাড়া পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াখালী-৩ আসনের বরকতউল্লা বুলু ও নোয়াখালী-৪ আসনের মো. শাহজাহান। নোয়াখালী-২ আসনের মাহবুব উদ্দিন খোকন দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন। আর প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াখালী-৫ আসনের মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।