রাকিব-নাছিরের তামাদি কমিটি
ছাত্রদলে শীর্ষ নেতৃত্ব যারা আসতে পারে © টিডিসি সম্পাদিত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রধান সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সর্বশেষ ৫ কমিটির চারটিরই মেয়াদ দুই বছরের কম-বেশি সময় পার করতে পেরেছে। সর্বশেষ রাকিব-নাছির কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। ৫ কমিটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় পার করেছে রাজীব-আকরাম কমিটি, যার মেয়াদ ছিল প্রায় ৫ বছর।
বিএনপির এই সহযোগী সংগঠনের অলিখিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ ২ বছর। আর বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা পর্যায়ের কমিটির মেয়াদ এক বছর। তবে কিছু কিছু কমিটি মেয়াদ বছরের পর বছর পার হতেও দেখা গেছে।
সংগঠনের সূত্র মতে, ছাত্রদলের ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে শীর্ষ দুই নেতার ‘মাইম্যান’ স্থান দেওয়া, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবিসহ বিভিন্ন কারণে সমালোচিত হয় বর্তমান নেতৃত্ব। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে কমিটির মেয়াদকাল। মেয়াদ শেষে সংগঠনটিতে দাবি উঠেছে নতুন কমিটি ও নেতৃত্বের। যে কমিটিতে পদ পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে তদবিরও শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ঘোষণা হতে পারে যেকোনো সময়।
জানা গেছে, গত ১ মার্চ রাকিব-নাছিরের নেতৃত্বে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হতে না হতেই নতুন নেতৃত্বের জন্য তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে সংগঠনটিতে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক-শীর্ষ এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদকে ঘিরে সংগঠনটির ভেতরে চলছে নানা সমীকরণ, লবিং ও আলোচনা।
বর্তমান প্রজন্ম জেন-জি প্রজন্ম। ছাত্রদল বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে একটি স্মার্ট ছাত্র সংগঠন হিসেবে পরিচিত। ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে তাদেরই আসা উচিত যারা জেন-জি‘দের মন বুঝতে পারবে, তরুণ ছাত্র-ছাত্রীরা একটি সংগঠনের কাছে কী প্রত্যাশা করে; তা উপলব্ধি করে সেই আলোকে পদক্ষেপ ও কর্মপন্থা গ্রহণ করতে পারবে।— অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক
২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ৭ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে একই বছরের ১৫ জুন ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরে এই কমিটিতে সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতার পছন্দের লোকজনদের স্থান দিতে গিয়ে পরীক্ষিত ও মামলায় জর্জরিত শতাধিক যোগ্য ও ত্যাগী পদপ্রত্যাশীর স্থান হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে পদবঞ্চিতরা একাধিকবার আন্দোলনে নামলে তা দলীয় আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
একদিকে পদপ্রত্যাশী নেতারা লবিং-তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলের স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজেদেরকে জানান দিচ্ছেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আড্ডা-ইফতার-শোডাউন প্রভৃতি কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্মীদের সময় দিচ্ছেন নিয়মিত। তাছাড়া বিগত দিনে ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও জেল-জুলুম, নির্যাতনের ঘটনাগুলো সামনে আনছেন নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আবার অনেকেই জুলাই আন্দোলনসহ জাতীয় বড় বড় আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নানা কর্মকাণ্ডকে হাইলাইটস করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে সামনে রেখে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে আলোচনায় রয়েছেন অন্তত ডজন খানেক সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশী নেতা।
সংগঠন সূত্র বলছে, দীর্ঘ দেড় যুগ পর গতমাসে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতার ট্র্যাকে ফিরেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। প্রাণ দিতে হয়েছে অনেককেই। এ থেকে বাদ যায়নি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ফলে সরকারে গিয়ে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ শুরু হওয়ায় সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় থাকা নেতাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে।
সূত্র মতে, সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সুপার ফাইভের কয়েকজন নেতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতারা। এ ছাড়া সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে সম্ভাব্য শীর্ষ পদের জন্য জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। আলোচনায় রয়েছে ছাত্রদলের এক নম্বর সাংগঠনিক ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সুপার ফাইভেরও কয়েকজন নেতার নামও।
সংগঠনটির নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এবার নেতৃত্ব বাছাইয়ে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। বিগত সময়ের আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ছাত্রসমাজের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করার প্রতি জোর দেওয়ার কথা বলছে।
বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নতুন নেতৃত্বে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় রাখা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব বাছাইয়ে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের পাশাপাশি জেন-জি‘দের মন বুঝতে পারবে, এমন নেতাদের প্রাধান্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক। ফলে ছাত্রদলের নতুন কমিটি বা সাংগঠনিক বিষয়ে তিনি নিজেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন কমিটিতে আলোচনায় আছেন সংগঠনটির ডজন খানেক নেতা। এরমধ্যে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন রাকিব-নাছির কমিটির সুপার ফাইভের (শীর্ষ ৫ নেতা) সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান ও প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) শরিফ প্রধান শুভ। তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯–১০ সেশনে ভর্তি হয়েছিলেন। এই সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি খোরসেদ আলম সোহেলও।
অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা যুগ্ম সম্পাদক সাধারণ মো. রাজু আহমেদ, গাজী মো. সাদ্দাম হোসেন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, তারেক হাসান মামুন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল ও ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাবেক নেতা, বিএনপি মিডিয়া সেলের যোগাযোগ সমন্বয়ক করা জার্মানভিত্তিক কনরাড এডিনাওয়ার স্কুল ফর ইয়ং পলিটিশিয়ান্স-এর রাজনৈতিক ফেলো দ্বীন ইসলাম খানও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির সুপার সেভেনের (শীর্ষ সাত নেতা) কয়েকজন নেতাও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আলোচনায়। তারা হলেন- সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক ও নাছির উদ্দীন শাওন।
এরমধ্যে অনিক ঢাবির ২০১০–১১ এবং বাকি দুইজন ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রনিও আলোচনায় রয়েছেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী।
ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বর্তমান প্রজন্ম জেন-জি প্রজন্ম। বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে একটি স্মার্ট ছাত্র সংগঠন হিসেবে পরিচিত। ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে তাদেরই আসা উচিত যারা জেন-জি‘দের মন বুঝতে পারবে, তরুণ ছাত্র-ছাত্রীরা একটি সংগঠনের কাছে কি প্রত্যাশা করে তা উপলব্ধি করে সেই আলোকে পদক্ষেপ ও কর্মপন্থা গ্রহণ করতে পারবে। অর্থাৎ ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি তাদের মন জয় করে শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে করতে পারবে যারা সেসব যোগ্যতা সম্পন্ন সাহসী, ত্যাগী ও মেধাবীদেরই ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসা উচিত বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। আর আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের চেয়েও ভালো চিন্তা করেন। তিনি সবার সম্পর্কে জানেন। উপযুক্তদেরই তিনি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে আনবেন।
বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে নিপীড়নের শিকার ঢাবির এই শিক্ষক আরও বলেন, ছাত্রদল চলমান কমিটি স্থবির বা ব্যর্থ হয়ে পড়েছে; অনেকে মন্তব্য করলেও আমি তা মনে করি না। আপনারা জানেন, মাত্র কিছুদিন আগে দেশে জাতীয় নির্বাচন হয়ে গেল। সেই নির্বাচনে আমাদের দল বিএনপি জনগণের রায়ে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসেছে। আর ক্ষমতায় বসার পর কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দলীয় কর্মকান্ড বেশ কিছুটা কমে গেছে বা স্থিমিত হয়েছে। এটাই স্বাভাবিক। কিছুটা সময় নিতে হয়। সরকারে গিয়ে যেমন বিএনপি নিচ্ছে-তেমনি অঙ্গ সংগঠন হিসেবে ছাত্রদলও সংগঠন গোছানোর আগে কিছুটা সময় নিচ্ছে। তাছাড়া ফ্যাসিবাদের পতনের পর এখন তো আর ছাত্র সংগঠনগুলোকে সার্বক্ষণিক রাজপথের আন্দোলনে থাকতে হচ্ছে না। সেই কারণে ছাত্রদলের কার্যক্রমও অনেকটা স্তিমিত মনে হচ্ছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থার পতনের পরে সামাজিক সুবিচারভিত্তিক স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের সামষ্টিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে রাজনীতি করছে। নানান কারণ ছাত্র সংসদে আমাদের নেতিবাচক ফলাফল হয়েছে। কারণগুলো বিশ্লেষণ করে সামনে কীভাবে ছাত্র সংসদগুলোতে ছাত্রদল তার অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবে আমরা সেদিকে মনযোগ দিচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি আমরা যে ইতিবাচক রাজনীতি করছি সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আস্থা ও বিশ্বাসের ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের পাশেই থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
ছাত্রদলের শীর্ষ পদ প্রত্যাশী রাকিব-নাছির কমিটির যুগ্ম সাধারণ পদ মর্যাদায় দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত শরিফ প্রধান শুভ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শিক্ষা প্রগতিকে ধারণ করা একটি ছাত্র সংগঠন। এটা প্রকৃতই ছাত্রদের চিন্তা-চেতনাকে ধারণ করে। ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আমি ছাত্রলীগের গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের হাতে টর্চার সেলে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি গণতন্ত্রের মাতা আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ছাত্রদলের অভিভাবক আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চেতনা ও শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করা ছাত্রদলের একজন কর্মী।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সাধারণ মো. রাজু আহমেদ বলেন, নতুন কমিটি একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। বিগত সময়ে যারা আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিল। তাদেরকে দিয়ে কমিটি দিলে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা খুশি হবে। সংগঠন এবং সাংগঠনিক অভিভাবক চাইলে যে কোন সময় কমিটি হতে পারে।
ছাত্রদলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল কাজল বলেন, নিয়মিত কমিটি কার্যক্রম ছাত্রদলের সাংগঠনিক গতিশীলতা নিয়ে আসবে, যেহেতু বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে তাই নতুন নেতৃত্ব সবার মাঝে আশার সঞ্চার ঘটাবে। তবে নতুন নেতৃত্ব যাতে তারুণ্য নির্ভর, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্ন, শিক্ষার্থীদের চিন্তা চেতনাকে ধারণ করে সংগঠনকে সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের মাঝে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় তৈরি করতে পারে এমন নেতৃত্ব আসা উচিত।
ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে পদপ্রত্যাশী দ্বীন ইসলাম খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, তরুণ সমাজের প্রত্যাশা এবং ক্যাম্পাস রাজনীতির পরিবর্তিত চরিত্র-সব মিলিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রশ্নটি শুধু সাংগঠনিক বিষয় নয়, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার বিষয়ও।
তিনি বলেন, ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। সেশনজট, আবাসন সংকট, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি-এসব বাস্তব ইস্যুতে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারলেই সংগঠন নতুন প্রজন্মের আস্থা অর্জন করবে। শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রতিধ্বনি হয়ে থাকলে ছাত্রসমাজের সঙ্গে দূরত্ব বাড়বে।
দ্বীন ইসলাম আরও বলেন, সময় বদলেছে। তাই নেতৃত্বও হতে হবে সময়োপযোগী, দায়িত্বশীল এবং শিক্ষার্থী সমাজের বাস্তব চাহিদা সম্পর্কে সচেতন। এমন নেতৃত্বই সংগঠনকে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে পারে।