জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুফতি মাওলানা ফজলুল করিম © টিডিসি ফটো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ (দৌলতখান–বোরহানউদ্দিন) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুফতি মাওলানা ফজলুল করিম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
জামায়াত প্রার্থীর এই সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও মতামত প্রকাশ করেন তারা। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারের প্রথম দিন দৌলতখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি কার্যালয় দিনভর বন্ধ ছিল। এ সময় এলাকায় গুঞ্জন ওঠে, ১০ দলীয় ইসলামী জোটের পক্ষ থেকে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাননি।
এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে দৌলতখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আশ্রাফ উদ্দিন ফারুক জানান, 'কেন্দ্রীয় ১০ দলীয় ইসলামী জোট ভোলা-২ আসনে ছাতা প্রতীকে এলডিপির প্রার্থী মোখফার উদ্দিন চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে।' তিনি বলেন, 'আমরা জোটের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মাঠে আমরা আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাব। তবে জোটের প্রার্থী আমাদের সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেননি কিংবা সহযোগিতাও চাননি।'
এদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও আসন পরিচালক মাওলানা মাকসুদুর রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, '১০ দলীয় ইসলামী জোটের কেন্দ্রীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বৃহত্তর ইসলামী স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'এটি কোনো দুর্বলতা বা ভয়ের বহিঃপ্রকাশ নয়। বরং সংগঠনের শৃঙ্খলা, উম্মাহর ঐক্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত। আজ আমরা এক ধাপ পিছিয়ে এলেও আদর্শ ও ন্যায়ের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।'