গত বছরের ঈদ আনন্দ মিছিল © সংগৃহীত
গত বছরের মতো এবারও নাগরিক উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘ঈদ আনন্দ মিছিল’। এছাড়াও তিনদিন ব্যাপী ঈদ উৎসব আয়োজন করা হবে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ২টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এবারের মিছিলের লক্ষ্য, কর্মসূচি ও আয়োজনের বিস্তারিত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে আয়োজক কমিটি।
আয়োজক কমিটিতে রয়েছেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া, আব্দুল কাদের, লুৎফর রহমান, সারোয়ার তুষার, সাইয়েদ জামিল, সৈয়দা নীলিমা দোলা, আব্দুল্লাহ আল কাফি, আফজাল হোসাইন, আহনাফ তাহমীদ, আল আমিন টুটুল, আল মাশনূন, আরিফুর রহমান, মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, জাহিদ আহসান, জুবায়ের হোসাইন, তারেক এ আদেল, তুহিন খান, ডা. শাফিন ইব্রাহিম হোসাইন, নুসরাত তাবাসসুম, ফারদিন হাসান অন্তন, ফরহাদ সোহেল, মুহিম মাহফুজ ও হাসান ইনাম।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রায় ৫০০ বছর আগে এই অঞ্চলে ঈদের মিছিল ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উৎসবের প্রতীক। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সুলতানি আমল থেকে শুরু করে মোঘল সম্রাজ্য চলাকালীন সময়েও ঈদের দিন বর্ণাঢ্য মিছিল হয়ে উঠেছিল ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভাতৃত্বের প্রতীক। হাতি, ঘোড়া ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরে ঈদের মিছিল নাগরিক জীবনের প্রাণবন্ত সামাজিক উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছিল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কিন্তু পরবর্তী সময়ে উপনিবেশিক শাসন ও উচু জাতের জমিদারদের সাংস্কৃতিক দমনে ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে এই উৎসবের আমেজ। বাঙালী মুসলমানের উপর সাংস্কৃতিক আধিপত্য ও স্বৈরাচারী শাসন ঈদের উৎসবকে একটি আমেজহীন ছুটির দিনে পরিণত করে। ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের উপর আঘাত হানে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ঈদের মিছিল আবারও শুরু হয়। গতবছর রাজধানীর ঈদ মিছিলে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। ঈদমিছিল শহরের সড়ক অতিক্রম করার সময় পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যুক্ত হন। শিশু, তরুণ ও প্রবীণ সকলেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাস্তায় নেমে আসেন, ফলে পুরো শহর উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে। এই ধারাবাহিকতায় এ বছরও নাগরিকদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হচ্ছে ঈদের মিছিল। এবার শুধু ঈদের দিন বর্ণাঢ্য মিছিলই নয়; বরং ঈদের আগের দিন থেকে টানা তিনদিন যাবত উদযাপিত হতে চলেছে ঈদ উৎসব।
কর্মসূচি ঘোষণা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ঈদের আগের দিন চাঁদ রাতে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজন করা হবে মেহেদী উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের যে কেউ এই মেহেদী উৎসবে সামিল হতে পারবে। চাঁদরাতে চলবে ঈদের গান, কবিতা ও নানা আয়োজন।
তিনি বলেন, ঈদের দিন সকাল দশটায় জাতীয় ঈদগাহের সামনে (হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ) থেকে ঈদের মিছিল শুরু হবে। ঈদের নামাজের পর রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া, মহল্লা থেকে নাগরিক উদ্যোগে ঝটিকা মিছিল নিয়ে দশটার আগেই সবাই জড়ো হবে। ঈদের বর্ণাঢ্য মিছিলটি দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হবে। বিভিন্ন স্থান থেকে জড়ো হওয়া ঝটিকা মিছিলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জাকজমকপূর্ণ মিছিলকে পুরস্কৃত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের মিছিলে ঐতিহ্য অনুযায়ী থাকবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি, প্ল্যাকার্ড, হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি ইত্যাদি।
তিনি আরও বলেন, ঈদের পরদিন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হবে ঘুড়ি উৎসবের। ঢাকার প্রাচীন এই ঘুড়ি উৎসবকে ঈদের উৎসবের সঙ্গে পালন করার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চর্চার একটি মিথস্ক্রিয়া তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তিনি জানান, শিশু-কিশোরদের আগ্রহী করতে ঈদের মিছিলের বড় একটি অংশজুড়েই থাকবে কিডস জোন। শত বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ এই ঈদ উৎসবে ব্যাপক উপস্থিতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নাগরিক উদ্যোগে এই আয়োজন বিধায় সর্বসাধারণের আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী যে কোনো তরুণও যুক্ত হতে পারবে এই আয়োজনের সঙ্গে।