নাহিদ ইসলাম © ফাইল ফটো
নির্বাচন কমিশন সবার আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, কমিশন যদি প্রভাবিত হয় বা অনিয়ম চলতে থাকে, তাহলে ১০ দলীয় জোট রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তবে তারা আন্দোলনের নয়, নির্বাচনের মাঠেই থাকতে চান। কমিশন যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না করে—এ আহ্বান জানান নাহিদ।
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সবার আস্থা অর্জন করতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। জনগণ সব দেখছে। কমিশন প্রভাবিত হলে আমরা ১০ দলীয় জোট মাঠে নামতে বাধ্য হবো। আমরা নির্বাচনের মাঠে থাকতে চাই, কমিশন যেন আন্দোলনের মাঠে নামতে বাধ্য না করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনিয়ম চলতে থাকলে দল ও জোটের পক্ষ থেকে ভিন্ন পথে যাব। আগের মতো পরিকল্পিত নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হলে মেনে নেয়া হবে না। প্রতিহত করা হবে। ২০০৮ এর মতো না, নির্বাচন হবে ১৯৯১ সালের মতো।’
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করতে চাই, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। কিন্তু, গতকাল আপনারা দেখেছেন একটি ছাত্র সংগঠনের নেতারা ইসির সামনে কি ধরণের পরিবেশ তৈরি করে তাদের ঋণ খেলাপি ও দ্বৈতৃ
নাগরিক প্রার্থীদের পক্ষে রায় আনতে বাধ্য করেছে। এমনটি চলতে থাকলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। আমরা নির্বাচনের মাঠে থাকতে চাই। আমাদের যেন আন্দোলনের মাঠে না যেতে হয়।’
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘তারেক রহমান ও অন্য দল ছবি দিয়ে প্রচারণা করছে সেখানে। আমরা গণভোটের প্রচার করছিলাম। সরকারও সংস্কারের পক্ষে প্রচার করছে। শোকজ দিয়ে ইসি গণভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আমরা চাইনা কারোর ওপর চাপ দিয়ে প্রভাবিত করতে। দলের পক্ষ থেকে অতীতে নির্বাচন কমিশনের কি হয়েছিল তা ইসি দেখেছে।’
আরও পড়ুন: কেমন ছিল জিয়াউর রহমানের শেষ ২০ ঘণ্টার কার্যদিবস?
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে ফিরে বলেছিলেন তার একটা পরিকল্পনা আছে। একটি স্বাধীন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে চাপ প্রয়োগ করা, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচনকে একদিকে হেলে ফেলানো, নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, গণভোট যাতে না এর পক্ষে যায় এগুলো তার পরিকল্পনার অংশ কিনা তা নিয়ে জনগনের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি তারেক রহমানের প্রশাসনকে চাপ করা, সংস্কার বিপক্ষে থাকা, ভোট কেন্দ্র দখল করা তার পরিকল্পনার অংশ কি না। ঋণ খেলাপি দ্বৈত নাগরিকদের সংসদে নেয়া তার পরিকল্পনার অংশ কিনা স্পষ্ট করা দরকার।’
নাহিদ ইসলাম জানান, ‘নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমাদেন টানাপোড়েন আগে থেকেই। আমাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে কী ধরণের আচরণ করেছে সবই আপনারা জানেন। তারপরও দলীয় বিষয় হওয়ায় আমরা তা মেনে নিয়েছি।’