পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে: সালাহউদ্দিন

১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৫ PM
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ © সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন যে, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে নানা অনিয়ম বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন। 

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে কিছু ভুলভ্রান্তি স্বাভাবিক হলেও বর্তমানে যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসছে, তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি প্রথম উদ্যোগ। ফলে কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে। তবে যেসব অনিয়মের অভিযোগ আসছে, তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কিছু কাজ হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।'

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু আইনগত বিষয় ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ব্যালট জব্দ করা হয়েছে, কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও একজনের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'কোন প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, কীভাবে তারা ভোট দেবেন, কোথায় স্ক্যান করবেন এবং এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়া গেলে তার দায় কার—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। 

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা বিষয়গুলো বিবেচনা করে ব্যাখ্যা দেবে, প্রয়োজনে আজই দিতে পারে।'

আচরণবিধি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ ভোটার স্লিপের নিয়ম পরিবর্তনের দাবি জানান। তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা দরকার। বর্তমানে আচরণবিধিতে দলের নাম বা প্রার্থীর ছবি দেওয়ার যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত কারণ ভোটার স্লিপ দেওয়া মানেই ভোটে প্রভাব ফেলা নয়। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন যে, বিএনপির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকলেও অন্য দলের নেতাদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, 'প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের নাম ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার করা হয়, সেই একই ব্যালট সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত। এতে সব নির্বাচনী এলাকার জন্য আলাদা আলাদা প্রতীকসংবলিত ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন হবে না এবং জটিলতাও কমবে।' নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। 

বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমেদের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোনে নিষেধাজ্ঞা
  • ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুন্সিগঞ্জে বিএনপির সংঘর্ষ: অস্ত্রধারী ৪ জন শনাক্ত, গ্রেপ্ত…
  • ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডাক্তারি ছেড়ে রাজনীতিতে আসা নিয়ে অপপ্রচার, যা বললেন তাসনিম …
  • ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মধ্যরাতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট স্থগিত
  • ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা
  • ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এনসিপি প্রার্থীর কেন্দ্র এজেন্টকে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্…
  • ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬