খালেদ সাইফুল্লাহ © ফেসবুক থেকে নেওয়া
স্ত্রী তাসনিম জারা ও নিজেকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দীর্ঘ লেখাকে অনুমাননির্ভর ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন খালেদ সাইফু্ল্লাহ। তিনি বলেন, আমার বাবা কখনোই জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। আমি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগে কখনো জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের অঙ্গ-সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদ সাইফুল্লাহর দেওয়া পোস্টটি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করার জন্য লিখছি।
সম্প্রতি আমার স্ত্রী তাসনিম জারা ও আমাকে নিয়ে একটি দীর্ঘ লেখা ইন্টারনেটে ছড়ানো হচ্ছে। লেখাটিতে ব্যক্তিগত জীবনের খণ্ডচিত্র এবং বানোয়াট ও অনুমাননির্ভর তথ্য ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর দাবি প্রচার করা হয়েছে।
তথ্যগত গ্যাপের কারণে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীও এই লেখা দ্বারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তাদের জন্যই এ বিষয়ে কিছু প্রেক্ষাপট তুলে ধরা জরুরি মনে করছি।
প্রথমত, জারার মনোনয়ন আপিলের পর গ্রহণ হওয়ার প্রসঙ্গটি টেনে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে তিনি বিশেষ কোনো মহল থেকে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন এবং তাঁকে এভাবেই নির্বাচনেও পাশ করানো হবে।
অথচ আপনারা একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন যে, নির্বাচন কমিশনে প্রথম দিনে ৭০ জন আপিলকারীর মধ্যে ৫১ জনই প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন। দ্বিতীয় দিনে ৭১ জনের মধ্যে ৫৮ জনের প্রার্থিতা মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে নাগরিক ঐক্যের জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না এবং রাষ্ট্র সংস্কারের জনাব হাসনাত কাইয়ুমও রয়েছেন। অর্থাৎ, প্রায় সব আপিলকারীর ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশন যৌক্তিক ও নমনীয় আচরণ দেখিয়েছে। এই অত্যন্ত সাধারণ ও স্বাভাবিক একটি বিষয়কে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, এই দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে আরও কিছু অসত্য ও অতিরঞ্জনকে প্রমাণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়গুলো পরিষ্কার করা জরুরি।
১. আমার বাবা কখনোই জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। আমি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগে কখনো জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের অঙ্গ-সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। একইভাবে, তাসনিম জারা বা তার পরিবারের কেউ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যুক্ত হওয়ার আগে কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের অঙ্গ-সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এর বিপরীত সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ বানোয়াট। উল্লেখ্য, আমার এই ব্যাখ্যার উদ্দেশ্য কিছু সত্য তুলে ধরা - কোনো নির্দিষ্ট দল করা বা সমর্থন করাকে আমি অন্যায় মনে করি না।
২. দাবি করা হয়েছে যে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোটে যাওয়ার বিষয়টি গোপন করে তাসনিম জারা নির্বাচনের জন্য ক্রাউডফান্ডিং চালিয়েছেন এবং পরবর্তীতে তিনি টাকা উঠিয়ে পদত্যাগ করেন। এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
জারার ক্রাউডফান্ডিং কার্যক্রম শুরু করে ২২শে ডিসেম্বর। এর তিন দিন পর (২৫শে ডিসেম্বর) জামায়াতের সাথে জোট হওয়ার খবর জেনে এনসিপির ৬ জন নারী নেত্রী আহ্বায়কের সঙ্গে দেখা করেন এবং কোনো দলের সাথে জোটে না গিয়ে নতুন রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অনুরোধ জানান। এই ৬ জন নারী নেত্রীর মধ্যে ৩ জন ছিলেন পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য।
৩. ২০১৭ সালে জারার করা বিয়ে সংক্রান্ত একটি পুরোনো পোস্ট ভাইরাল হওয়াকে “পূর্বপরিকল্পিত” বলা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, এই দাবি মূলত আওয়ামী ঘরানার লোকজনই করে থাকেন। অথচ সেই পোস্টটি নিয়ে প্রথম নিউজ করেছিল “এগিয়ে চলো” নামের একটি আওয়ামী স্বার্থসংশ্লিষ্ট পোর্টাল। পরবর্তীতে সেখান থেকেই বিষয়টি বড় আকার নেয়। পরবর্তীতে পোর্টালটি জারার ২০১৩ সালের একটি ইংরেজি পোস্টকে ভুল ব্যাখ্যা করে জারাকে "যুদ্ধাপরাধী সমর্থক" দাবী করে এবং নিউজটি সরিয়েও নেয়।
৪. লেখাটিতে আমার সম্পর্কে আরও কিছু কল্পনাপ্রসূত তথ্য ছড়ানো হয়েছে। আমি জীবনে কখনো সাংবাদিকতা করিনি, অথচ আমাকে সাংবাদিক বলা হয়েছে। আমি কেমব্রিজে পড়িনি; আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। এগুলো পাবলিক ইনফরমেশন এবং খুব সহজেই যাচাইযোগ্য। এই সাধারণ তথ্যগুলোও ভুল থাকা প্রমাণ করে, পুরো লেখাটি কতটা ভিত্তিহীন ও মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
আমরা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার কথা প্রচার করলেও বাস্তবে কাউকে অপবাদ দিতে এখন আর প্রমাণের প্রয়োজন বোধ করি না। এই ধরনের ভিত্তিহীন দাবীগুলো যদি ব্যক্তিগত মতাদর্শের সঙ্গে মিলে যায়, তখন যাচাই-বাছাই ছাড়াই তা শেয়ার দিয়ে বলি, “আমি আগেই ভেবেছিলাম, এখানে একটা ঘাপলা আছে!’’