খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে © সংগৃহীত
সাধারণ একজন গৃহবধূ থেকে রাজনীতির জটিল মঞ্চে পা রেখে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার সংগ্রামী পথ চলা আর কর্মময় জীবনের ওপর দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকা।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বাদ জুমা শেরেবাংলানগরে জিয়া উদ্যানে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এসময় সংগঠনটির সভাপতি মারুফা রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলন-সংগ্রামী জীবন এতোই বিস্তৃত, এতোই বিশাল, এতোই বর্ণাঢ্য যে, একটা আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে তার জীবন সংগ্রাম কোনোভাবেই ধারণ করা সম্ভব নয়। বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটিকে অনুরোধ করবো বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন সংগ্রাম ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উপর তারা যেন আলাদা আলাদা প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
তিনি বলেন, দেশনেত্রীর জানাজায় এতো মানুষের সমাগম হয়েছে যেটা বিশ্বের প্রধান জানাজাগুলোর মধ্যে অন্যতম। মানুষটা সারাজীবন লড়াই করেছেন জনগণের জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষার জন্য।তরুণ প্রজন্ম যারা বেগম জিয়ার নেতৃত্ব সামনে থেকে দেখে নাই, তারা বেগম জিয়ার সম্পর্কে জানতে চায়। এজন্য আমি বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটিকে অনুরোধ করবো তারা যেন এ বিষয়ে আরো কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বগুড়া মিডিয়া এন্ড কালচারাল সোসাইটির উপদেষ্টা আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী না, বাংলাদেশের চার দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেসব নারী নেতৃত্ব সাহস, দৃঢ়তা ও গণআস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, তাদের অগ্রভাগে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ছিলেন আপসহীনতার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তরুণরা বেগম জিয়া সম্পর্কে জানতে চায়। আমরা খুব শীগ্রই বিভিন্ন জায়গায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন সংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবো।
বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকার সভাপতি মারুফা রহমান বলেন, আমরা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই আয়োজন করেছি।এখানে একেকটি ছবি তার রাজনৈতিক জীবনের একেক সময়কার দলিল। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেক মানুষ এখানে আসছেন। বিশেষ করে তরুণরা আসছেন, তাদের আগ্রহটা বেশি। তারা বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে পারবে জানতে পারবে।
সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ বলেন, তরুণরা বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে জানতে চায়। আমরা ধাপে ধাপে আরো বেশ কিছু আয়োজন করবো। খুব শীঘ্রই বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকার উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন সংগ্রাম ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উপর বিভিন্ন ডকুমেন্টারি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্বের প্রায় ১০০টি স্থিরচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এসময় সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আদনান আজাদ, সহ-সভাপতি ফেরদৌস মামুন, জুলফিকার হোসাইন সোহাগ, আনোয়ার হোসেন জনি ও রাশেদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম আমিনুল ইসলাম ও গোলাম রাব্বী সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম জনি, অর্থ সম্পাদক ইসহাক আসিফ, দপ্তর সম্পাদক এসএম হুমায়ুন কবির, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রামিম হাসান, প্রচার সম্পাদক জাহিন তালুকদার, প্রকাশনা সম্পাদক টিনা খানম, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, নাট্যবিষয়ক সম্পাদক বিভান বাদল, সমাজসেবা সম্পাদক আজাদ আহমেদ, পরিকল্পনা সম্পাদক রেজওয়ান উল আরেফিন, প্রচার সম্পাদক জাহিন তালুকদার, ক্রীড়া সম্পাদক মির্জা সম্রাট রেজা, সদস্য অরণ্য পাশা, আলমগীর সরকার লিটনসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কর্মরত বগুড়াবাসীদের নিয়ে গঠিত ‘বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি (বিএমসিএস)’ উদ্যোগে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবনকর্মের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি প্রদর্শনী স্থল ঘুরে ঘুরে দেখেন।