সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর © সংগৃহীত
ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ফলাফলের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের (ছাত্র সংসদ) নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কখনোই প্রভাব ফেলেনি। আশা করি, এবারও সেভাবে প্রভাব পড়বে না।’ আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করার সময় এ কথা বলেন তিনি।
ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের সাফল্যের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিষয়টি গভীরভাবে গবেষণা করা প্রয়োজন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অন্য ছাত্রসংগঠনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কাজ করার সুযোগ পায়নি; বিশেষ করে ছাত্রদলকে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। বলা যায়, তাদের অবাঞ্ছিত করে রাখা হয়েছিল। এ কারণে ছাত্রদলসহ অন্য সংগঠনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সেভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি।
আরও পড়ুন : ‘জয়–পরাজয়ের ভুলে সবাই বলছে—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ই জিতে গেছে’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি বলেন, গোটা দেশের মানুষ তো অপেক্ষা করছে নির্বাচনের জন্য কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেটা দাঁড়িয়েছে, সেটাতে আমি খুব সন্তুষ্ট হতে পারছি না। কারণ যে হারে রাজনৈতিক নেতাদের খুন করা হচ্ছে, বিশেষ করে আমাদের দলের অনেক কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এটার তীব্র নিন্দা জানিয়েছি, ক্ষোভ জানিয়েছি কিন্তু সরকারের তরফ থেকে সে ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আমরা আশা করব যে, সরকার এ ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং নির্বাচনের সময় এই ঘটনাগুলোর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে তারা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
১২ জানুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঠাকুরগাঁও সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তার এটা একটা ব্যক্তিগত সফরই বলা যাবে। কারণ ওনি আসছেন নিজের গ্রামে বগুড়ায়। সেখান থেকে তিনি রংপুরে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি দিনাজপুরে যাবেন তার নানির কবর জিয়ারত করতে। সেখান থেকে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন, আমাদের এখানে কয়েকজন শহীদ আছেন, তার মধ্যে একজন শহীদের কবর তিনি জিয়ারত করবেন এবং পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় বড় একটি দোয়া মাহফিল হবে, সেখানে অংশগ্রহণ করবেন এবং সেখান থেকে তিনি পঞ্চগড় যাবেন। তারেক রহমান যখন দেশে আসেন, তখন তাকে সংবর্ধনা জানাতে ঢাকায় লাখ লাখ নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি যখন জেলাগুলোয় যাচ্ছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার নেতা–কর্মীরা আরও বেশি উজ্জীবিত হবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি নেতা–কর্মীদের গণভোটে ‘না’ বলার পক্ষে প্রচারণা চালানো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা ফেসবুকেই এসব দেখতে পাচ্ছেন। তবে দলের অবস্থান সেটি নয়। আমরা নিজেরাই একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন চেয়েছিলাম, সেটাই হয়েছে। সংস্কার বিষয়ে যে গণভোট হচ্ছে, সেই সংস্কারের বিষয়গুলো ২০১৬ ও ২০২৩ সালে ৩১ দফার মাধ্যমে আমরাই জাতির সামনে তুলে ধরেছিলাম। সংস্কার আমাদের মজ্জাগত। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, চলতেই থাকবে। সেখানে “না” বলার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।