গণঅধিকার পরিষদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে শাকিলউজ্জামানকে বের করে দিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন © টিডিসি সম্পাদিত
জনমনে বিভ্রান্তি ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় হওয়া সিদ্ধান্ত ১৬ দিন পর বিজ্ঞপ্তি আকারে দিয়ে এই অব্যাহতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এদিকে হোয়াটসঅ্যাপে গণঅধিকারের গ্রুপে এই তার অব্যাহতির বিজ্ঞপ্তি আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে গ্রুপ থেকে বের করে দিয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। তিনি বর্তমানে বিএনপি নেতা হওয়ায় এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শাকিল উজ্জামানকে অব্যাহতি দিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্তের নামে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন শাকিল। এ ঘটনার আগে শাকিল গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠান, যেখানে বলা হয়— গণঅধিকার পরিষদ এখন পর্যন্ত এককভাবেই তার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অব্যাহতি দিয়ে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি ব্যতীত দলীয় সিদ্ধান্তের নামে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোসহ সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামানকে তার দ্বায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হলো। সাময়িক অব্যাহতির পাশাপাশি তাকে কেন দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
এদিকে এই বিজ্ঞপ্তি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আসার কিছুক্ষণ পরই শাকিল উজ্জামানকে গ্রুপ থেকে রিমুভ দেন রাশেদ খাঁন। তিনি গত ২৭ ডিসেম্বর বিএনপিতে যোগ দেন। এর আগে ২৬ ডিসেম্বর তার দলত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। একইদিন সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তবে শাকিল বলছেন, অব্যাহতি দেওয়ার বিজ্ঞপ্তিতে ‘কেন্দ্রীয় কমিটি’র নির্দেশ বলে উল্লেখ থাকলেও উচ্চতর পরিষদে কোনো আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ছাড়া গণঅধিকারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রাশেদ খাঁনের থাকা এবং তাকে রিমুভ করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
দপ্তর সম্পাদকের পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতির পর শাকিল উজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি নিজে উচ্চতর পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। এই ডিসিশনের বিষয়ে ফোরামে কোনো আলোচনাই হয়নি। এটা একেবারে ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া সিদ্ধান্ত।
অব্যাহতির কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর নির্বাহী কমিটির একটা মিটিংয়ে রেজুলেশন হয়েছে যে গণঅধিকার পরিষদ এককভাবে নির্বাচন করবে। তার পরবর্তীতে আর কোনো অফিসিয়াল মিটিং হয়নি। এর পরে বিভিন্ন জায়গায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের জন্য কাজ করছে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় তারা বিভিন্ন সময় বাধার সম্মুখীনও হচ্ছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই ২২ ডিসেম্বরের রেজুলেশনটা অফিসিয়াল প্যাডে বিজ্ঞপ্তি আকারে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমাদের ২২ তারিখের সিদ্ধান্ত রেজুলেশন আকারে দেওয়া হয়েছে যে সারাদেশে আমরা কারো সাথে সমঝোতা করে নির্বাচন করব না। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, কাউন্সিল মেম্বার, অঙ্গ সংগঠনের প্রধান এবং মনোনীত প্রার্থীদের আইডিতে এটি শেয়ারও হয়েছে। একইদিন সব সংবাদমাধ্যমে নিউজও হয়েছে। ওই ঘোষণাটা অফিসিয়াল প্যাডে তখন দেওয়া হয়নি, সেটাই আজকে দিয়েছিলাম।
রাশেদ খাঁনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, রাশেদ ভাই কেন গ্রুপে থাকবে? সে গণঅধিকারে কেন? সে বিএনপির পদধারী নেতা, গণঅধিকার পরিষদের প্রেস গ্রুপে কী কাজ? সে আমাকে কিভাবে রিমুভ করে?
তিনি বলেন, আমি অনেকদিন ধরে গণঅধিকারে আছি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক ছিলাম ২০১৮ সালে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রে। আমি কারাগারে গেছি, গুম হয়েছি, দলের প্রতিষ্ঠাতাও। আমি নির্বাচিত উচ্চতর পরিষদ সদস্য। দপ্তরের দায়িত্বে আছি। তারা আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে, অথচ উচ্চতর পরিষদে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা করতে হলে তো উচ্চতর পরিষদে আলোচনা হতে হবে, আমি সে পরিষদের সদস্য। অতএব তারা দলীয় ডিসিশন অনুযায়ী আমাকে অব্যাহতি দেয়নি, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে করেছে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করার।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে শাকিল উজ্জামানকে রিমুভ করার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে গণঅধিকারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁনের মুঠোফোনে কল করা হলে আকাশ নামে একজন ফোন রিসিভ করেন। তিনি নিজেকে রাশেদ খাঁনের ছোটভাই বলে পরিচয় দিয়ে জানান, রাশেদ খাঁন অসুস্থ থাকায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।
প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মামুন ভাইয়ের (গণঅধিকার পরিষদের হাসান আল মামুন) কাছে তো এক্সেস আছে, রাশেদ ভাই বের করার কথা না। রাশেদ ভাই তো অনেক আগেই লিভ নিয়েছেন। তবে স্ক্রিনশট থাকার কথা বলা হলে তিনি আর কোনো কথা বলেননি।