জামায়াত-ছাত্রদল সংঘর্ষ © টিডিসি ফোটো
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৮টার দিকে উপজেলা নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৭৭ নম্বর চরওয়াডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম (২৩), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম সোহাগ (২২) ও জামায়াতে ইসলামীর যুব সংগঠনের নেতা সুজন খান (২৫)।
ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের অনুসারীরা বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ের কক্ষে বৈঠক করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক বাধা দিলে জামায়াতের কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ছাত্রদলের দু’জন নেতা আহত হন।
ছাত্রদল নেতাদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়। তাই ছাত্রদল নেতারা বিষয়টির প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জামায়াতের নেতারা তাদের ওপর হামলা চালান।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের অভিযোগ, তাদের একটি দলীয় সভা ছিল। নির্বাচনী প্রচারণা বা বৈঠক ছিল না। ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দোসরদের সঙ্গে নিয়ে সভা চলাকালে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তাদের ওপর হামলার অভিযোগ মিথ্যা। জামায়াতের কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ছাত্রদলের প্রায় ২৫-৩০ জন কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা করেন, এতে তাদের পাঁচজন কর্মী-সমর্থক আহত হন।
ঘটনার সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা জামায়াতের বৈঠক চলাকালে বিদ্যালয়ের সেই কক্ষে ঢুকে বৈঠকের বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি আছে কি না—তা জানতে চান। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। কিছু মাধ্যমে আমরা বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।