স্লাটশেমিংয়ের শিকার এনসিপি নেত্রী মিতু, প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে স্ট্যাটাস

০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৪ PM , আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৫ PM
ডা. মাহমুদা মিতু

ডা. মাহমুদা মিতু © সংগৃহীত

সম্প্রতি ক্রমাগতভাবে স্লাটশেমিংয়ের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও ঝালকাঠি-১ আসনে ১১ দলের প্রার্থী ডা. মাহমুদা মিতু। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা এমন কর্মকাণ্ড করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের পরিবার ও পারিবারিক সম্পদের বিবরণ নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন তিনি।

ডা. মাহমুদা মিতু ফেসবুক পোস্টে পড়াশোনা চলাকালেই বিয়ের ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন,  শ্বশুর বাড়ি থেকেই তার পড়াশোনার খরচ বহন করা হয়। এ ছাড়া ২০১১ সালেই তিনি প্রথম সন্তানের মা হয়েছেন। তার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নিয়েছে ২০১৬ সালে।

ভয়াবহ স্লাটশেমিংয়ের শিকার ডা. মিতু
গত ২৮ ডিসেম্বর ‘Mia Siman’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে লেখা হয়, ব্রেকিং নিউজ এই মুহুর্তে বাসায় ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার জুলাই যোদ্ধা ডা. মাহমুদ মিতু। সবাই পেজটি ফলো করে সাথে থাকুন।’ যদিও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরও নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে আলোচ্য ফটোকার্ডটি তাদের বানানো নয় বলে জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: এনসিপির প্রার্থী মাহমুদা মিতুকে হত্যার হুমকি

19 (2)
গত ২৮ ডিসেম্বর ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয় মাহমুদা মিতুকে নিয়ে

পরে ২৯ ডিসেম্বর ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামের ভুয়া একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘ব্রিগেডিয়ার ‘বন্ধু’র দাপট আর আঞ্চলিকতার দায়ে অডিশনে বাদ: সেই ‘বিতর্কিত’ মিতুই আজ জাতির নসিহতকারী!’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যেখানে তার চরিত্র নিয়ে আবারও বিভিন্ন ভুয়া তথ্য তুলে ধরা হয়। ওই পোস্টের বিবরণ অনুযায়ী, ‘বরিশাল অঞ্চলের এক নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা মিতু বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজে পড়াকালীন জড়িয়ে পড়েন নানা বিতর্কে। অভিযোগ রয়েছে, পড়াশোনার খরচ থেকে শুরু করে বিলাসবহুল জীবনযাপন— সবকিছুর জোগান আসত এক প্রভাবশালী ‘চিনি-বাবা’ বা সুগার ড্যাডির পকেট থেকে। সেই সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এতটাই মাত্রা ছাড়িয়েছিল যে, বিষয়টি গড়ায় পারিবারিক সংঘাত পর্যন্ত।’

এ কারণে ওই উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীর হাতে ডা. মিতু মারধরের শিকার হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই পোস্টে। বলা হয়েছে, উচ্চারণে প্রবল আঞ্চলিকতার কারণে একটি টেলিভিশনের অডিশন থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি।

জবাবে যা জানালেন
এসব অপপ্রচারের জবাবে ডা. মাহমুদা মিতু ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের ভয়ংকর নোংরামি শুরু হয়েছে, বিশেষ করে চরিত্র নিয়ে। গ্রামের দুয়েকটা ছেলে আবার সেগুলো কমেন্ট করে। আমি এগুলো দেখতে বা পাত্তা দিতেই চাই না। তবে আমি বলে রাখি, আমার পরিবার খুবই আলাদা একটা পরিবার। আমরা ব্যাংক সুদ থেকে শুরু করে সকল হারামের ব্যপারে সচেতন থাকার চেষ্টা করি। তবে বর্তমান সময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লাগে। এমনকি আমার শাশুড়ি তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদের টাকাও নিজের জন্য ব্যবহার করেননি।’

20 (1)
ভুয়া ফেসবুক পেজ আজকের কণ্ঠ থেকে এই ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়েছে

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগের অনেকেই মনে করে আমি একটা বাচ্চা মেয়ে। কিন্তু তারা আমার পরিবার সম্পর্কে জানে না। যেসব বাজে কথা ছড়াচ্ছে, তার বিপরীতে ছোট্ট একটা কথা বলি। আমার ২০১১ সালে মেয়ে হয়েছে, ২০১৬ সালে সেকেন্ড মেয়ে। অথচ তারা বলছে কি জঘন্য কথা। কোন অফিসারের কথা বলছে, আমি এসব জীবনেও শুনিনি। আমার ভাষায় আঞ্চলিক টান তো দূরের কথা, আমি কথা বললে কেউ বোঝেই না আমি বরিশালের। তারপর আমার মেডিকেলে পড়ার সমস্ত খরচ আমার শশুর বাড়ি দিয়েছে।’

আরও পড়ুন: অনলাইনে হেনস্তার ‘মূলহোতা’ বিএনপিপন্থী চিকিৎসক নেতার বিরুদ্ধে যা বললেন এনসিপির মিতু

ফেসবুক পোস্টে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ‘চরিত্র’ এর বাইরে সম্পদের বিবরণ নিয়েও কথা বলেছেন ডা. মাহমুদা মিতু। ‘সম্পদের হিসেব তো অনেক মিডিয়ায় দিবে’ উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আপনাদের একটা কথা বলি, আমার জীবনে, আমার বাবার জীবনে, আমার দাদার জীবনে, আমার শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী, ফুপু-ফুপা, মামা-চাচা কারও জীবনে এক পয়সা হারাম নাই, ঋণ নাই, মামলা নাই। বরং একজন ডাক্তার হিসেবে, সিনিয়র ডক্টরের স্ত্রী হিসেবে অন্যদের তুলনায় চোখে দেখার মত আমার যথেষ্ট সম্পদ কম আছে। আবার অনেকের তুলনায় আলহামদুলিল্লাহ বরকতময় রিযিক আছে যদিও।’

রাজনৈতিক দল খোলার পর আমি কোনো চাকরি ‘কন্টিনিউ’ করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, ‘মাঝেমধ্যে ওটি (অস্ত্রোপচার) এসিস্ট করি আরকি। আমার নামে আলহামদুলিল্লাহ কোথাও কোনো সম্পদ নাই, আলহামদুলিল্লাহ। তবে হাজবেন্ডের কাছে আবদার করে রাখছি রিটায়ারমেন্টের টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনলে আমার নামেই যেন কিনে।’

21 (2)
পোস্টে জুড়ে দেওয়া এই ছবিটিতে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ছবিতে শশুড় বাড়ির আঙিনা আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমাদের পরিবারের সকল টাকা এখনো আমার শাশুড়ির কাছেই থাকে। মায়ের কাছে থাকে বলেই আমাদের হাতে কিছু টাকা আছে, না হলে দুই স্বামী-স্ত্রী হয়তো এক টাকাও জমাতে পারতাম না। এমনকি অবিশ্বাস্য যে, আমার হাতের যে আইফোন-১৬ প্রো ম্যাক্সটা, সেটাও আমার শাশুড়ির কাছ থেকে আবদার করে টাকা নিয়েই কেনা। আমার অধিকাংশ জামদানি শাড়ি আমার বড় ননদ, যিনি গাইনোকোলজিষ্ট, উনার দেওয়া। মনোনয়ন জমার দুদিন আগেও একটা জামদানি পাঠিয়েছেন। মাশাআল্লাহ, আল্লাহ আমাকে কত ভালো বাবা-মা আর শ্বশুর বাড়ি দিয়েছেন ভাবতেও পারবেন না।

আরও পড়ুন: ‘প্রচারণার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হাদিকে ছাড়াই আজ মনোনয়ন ফরম নিলাম’

তবে ‘পারিবারিক কথাগুলো নজর লাগার ভয় বলতে চাই না’ বলেও উল্লেক করেছেন তিনি। লিখেছেন, ‘আমার পুরো জীবনে, আমার সন্তানদের জীবনে ইনশাআল্লাহ কেউ কোনো অন্যায়ের ইতিহাস পাবে না— এটা বলে রাখলাম। ভবিষ্যতে মিলিয়ে নিয়েন।’

দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমরা কার্যকর জাতীয় সংসদ পেয়েছি: স্পিকার হাফ…
  • ১২ মার্চ ২০২৬
আওয়ামী লীগ দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল: রাষ্ট্রপতি
  • ১২ মার্চ ২০২৬
ঈদ ঘিরে সরগরম ফেনীর বাজার, বাড়ছে বেচাকেনা
  • ১২ মার্চ ২০২৬
উদ্যোগের সাড়ে তিন বছর পর ঢাবিতে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতির মুখ…
  • ১২ মার্চ ২০২৬
ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত
  • ১২ মার্চ ২০২৬
সংসদে নাহিদের বক্তব্য শুনে কাঁদলেন ডা. মাহমুদা মিতু
  • ১২ মার্চ ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
22 April, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081