জামায়াত প্রার্থীর হলফনামা
জামায়াত নেতা মোহাম্মদ শফিউল আলম © টিডিসি সম্পাদিত
এইচএসসি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পড়ুয়া ছেলে এবং সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে শিক্ষক, পরামর্শক আর চাকরিজীবী হিসেবে ৫ লক্ষ টাকার আয় দেখিয়ে নির্বাচনী হলফনামা জমা দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম। হলফনামায় জামায়াতের এই প্রার্থী নিজের বার্ষিক আয় ১৪ লাখ টাকার কিছু বেশি উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী পেশায় চাকরিজীবী।
মোহাম্মদ শফিউল আলম চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) পরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এবারের নির্বাচনী হলফনামায় সেবারের চেয়ে ৩ গুণ আয় ও ৬ গুণ সম্পদ বেড়েছে তার।
হলফনামা থেকে জানা গেছে, বেসরকারি চাকরি এবং শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে আয় করেন শফিউল আলম। এর মধ্যে চাকরি থেকে ১৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা এবং শেয়ার কিংবা সঞ্চয়পত্র থেকে ৯৮০ টাকা আয় করেছেন তিনি। নগদ অর্থ রয়েছে ২৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ১ কোটি ৭ লাখ টাকার ওপরে।
২০১৫ সালে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, চাকরি খাত থেকে শফিউল আলমের বার্ষিক আয় ছিল ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কৃষি, ব্যবসা কিংবা অন্য কোনো খাত থেকে তার আয় নেই, কিন্তু এবার হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ হিসাবে ১০ বছরের ব্যবধানে তার আয় বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। ১০ বছর আগে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ছিল প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। তখন স্বর্ণ, আসবাব এবং দালানের পরিমাণ উল্লেখ করলেও দাম উল্লেখ করেননি তিনি। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে তার সম্পদ বেড়েছে প্রায় ছয়গুণ। ২০১৫ সালে শফিউলের হাতে নগদ টাকা ছিল ৫ লাখ টাকা, যা এবার হয়েছে ২৭ লাখ ৮৪ হাজার।
নিজের সঙ্গে সঙ্গে চাকরিজীবী স্ত্রীর সম্পদও বেড়েছে। আগে স্ত্রীর কোনো সম্পদের তথ্য দেননি শফিউল আলম, শুধু ২২ হাজার টাকার একটি ডিপিএস থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৩৮ লাখ টাকার সম্পদ।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শফিউল আলমের বড় ছেলে ইফতেখার উদ্দিন দিহান একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছেন। দ্বিতীয় ছেলে ইন্তেখার আলম দিলান এবার এইচএসসির শিক্ষার্থী। আর ছোট মেয়ে সুবাইতা বুশরা সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। হলফনামার ৫ নং ক্রমিকের নির্ভরশীলদের ‘পেশার তালিকা’ অংশে এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন শফিউল।
এরপরের ৬ নং ক্রমিকের আয়ের উৎসে ‘নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয়’ অংশে তিনি দেখিয়েছেন, নির্ভরশীলরা ব্যবসা থেকে ৫০ হাজার টাকা, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৯৯ হাজার টাকা, শিক্ষাগত পেশা থেকে ২ লাখ টাকা এবং চাকরি থেকে আলাদাভাবে বছরে এক লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেন। হলফনামার হিসাব অনুযায়ী, নির্ভরশীল তিনজন বার্ষিক প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় করেন।
এ নিয়ে জামায়াতের এই প্রার্থীর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ‘পেশার তালিকা’ অংশে বিশেষ দ্রষ্টব্যে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১২ এর দফা ৩(খ) অনুযায়ী, ‘নির্ভরশীল’ অর্থ প্রার্থীর স্ত্রী বা স্বামী এবং তাহার উপর
সম্পূর্ণ নির্ভরশীল পুত্র, কন্যা, পিতা, মাতা, ভ্রাতা বা ভগ্নী।’ জামায়াত প্রার্থী শফিউল আলম পৃথকভাবে স্ত্রীর পেশা হিসেবে বেসরকারি চাকরি উল্লেখ করলেও ‘নির্ভরশীলদের পেশা’ অংশে তার নাম উল্লেখ করেননি।