বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া গ্যাজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। পর্যবেক্ষণসহ এ আদেশ দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এতে মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য আর কোনো বাধা থাকল না।
শপথ নেওয়ার পর প্রথম কী করবেন তা জানিয়েছেন বিএনপির এ নেতা। আজ শুক্রবার (২৩ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।
পোস্টে তিনি লেখেন, শপথ কেবল একটা ফরমালিটি। জনতার মেয়র হিসাবে আমার দায়িত্ব বর্তায় আগামী কোরবানির ঈদের আগে যাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকে । আমি ঢাকাবাসীকে নিশ্চিত করছি, উত্তরে মেয়র না আসা পর্যন্ত সেখানকার প্রশাসন ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করব।
তিনি আরও লেখেন, দক্ষিণে সাবেক কাউন্সিলর ও বিগত নির্বাচনের প্রার্থীদের সমন্বয় করে একটি জোন ভিত্তিক মনিটরিং টিম এর অনুমোদন দিব। বিকালের মধ্যে (১৬ ঘণ্টায়)!একটা স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করবো। দক্ষিণ পরিচ্ছন্নকর্মীদের সাথে আমি নিজেও থাকব।
এর আগে আরেক পোস্টে বিএনপির এই নেতা লেখেন, এনসিপি সারওয়ার তুষার বলেছেন আমি মেয়র হওয়ার কথা বলে জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেছি এবং এটি তাদের সাথে প্রতারণার শামিল। জনাব তুষার যদি একটু মনোযোগ দিয়ে আমার বক্তব্য গুলা শুনতেন তাহলে উনি শুনতেন যে আমি বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় বৈষম্যের শিকার এবং ন্যায্য আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এটা বুঝতে পেরেই ঢাকার সাধারণ জনগণ এনসিপি এর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। এবং এখনই এটা প্রতিরোধ না করলে আবারো হাসিনা মার্কা জাতীয় নির্বাচন হতে পারে সেটাও বুঝে ফেলেছে। এবং বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন, সাক্ষাৎকারে আমি অন্যায়ের শিকার হয়েছি যাদের কারণে তাদের কথাও তুলে ধরেছি এবং তখন থেকেই পদত্যাগের দাবি জানিয়েছি।
ওই তিনি আরও লেখেন, প্রতারণা কোথায় করলাম সেটা স্পষ্ট করতে হবে। আমি এমন কোনো বিশাল কিছু না যে আমাকে মেয়রের চেয়ারে বসানোর জন্যে টানা আট দিন রোদ, বৃষ্টি, তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আন্দোলনে করেছে , স্লোগান দিয়েছে মিছিল করেছে। এটার নাম ঢাকা, এখানকার মানুষ সংবেদনশীল। তাদেরই সন্তানের সাথে অন্যায় অবিচার হচ্ছে দেখে তারা নেমে এসেছেন। অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই আঞ্চলিক রাজনৈতিক ডাইনামিক্স বুঝতে পারবেন যার জন্যে প্রয়োজন বহু সময় মানুষের মধ্যে থেকে তাদের সমস্যার সমাধান করা। বিএনপির মতো অবশ্যই একদিন হতে পারবেন, কিন্তু সময় লাগবে এবং যদি সঠিক পথে থাকেন। অন্তত ২০ থেকে ২৫ বছর রাজনীতি করে আসতে হবে।