কবি সামসুর রহমানের ৯২তম জন্মদিন আজ

২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৮:১৯ AM
কবি সামসুর রহমান

কবি সামসুর রহমান © ফাইল ফটো

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি শামসুর রাহমানের ৯২তম জন্মদিন আজ। বাঙালি জাতির নানা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের অসংগতি ও শোষণের বিরুদ্ধে তার অগ্নিদীপ্ত পঙ্‌ক্তিমালা বাংলা কবিতায় নির্মাণ করেছে অনন্য কাব্যস্বর। শামসুর রাহমানকে নাগরিক কবি বলা হলেও গণমানুষের সঙ্গে আধুনিক বাংলা কবিতার আত্মীয়তা সৃষ্টিতে তার ভূমিকা অগ্রগণ্য।

সাহিত্য রচনায় সৃষ্টিশীলতা ও মননের দ্যুতিময় উপস্থাপনা তাকে দিয়েছে কবিতার বরপুত্রের উপাধি। প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল ধরে তিনি লিখে গেছেন নানা কালজয়ী কবিতা। বাংলাদেশের জন্মকে ঘিরে লেখা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ কিংবা ‘স্বাধীনতা তুমি’র মতো অসংখ্য অনবদ্য কবিতা তার কলম থেকে বেরিয়েছিল। পাশাপাশি সমকালীনতা ধারণ করে সারা জীবন অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত সমাজের কথা বলেছেন কাব্যের ছন্দে।

শামসুর রাহমানের জন্ম ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুৎটুলীর নানাবাড়িতে। শামসুর রাহমানের ডাকনাম ছিল বাচ্চু। বাবা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী ও মা আমেনা বেগম। ১৩ ভাই-বোনের মধ্যে কবি ছিলেন চতুর্থ। পৈতৃক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। পুরান ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন কবি- তাই নগরজীবনের নানা অনুষঙ্গ ও উপকরণ বিচিত্র আঙ্গিকে উঠে আসতে দেখা যায় তার কবিতায়।

পুরান ঢাকার পোগোজ ইংলিশ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন ১৯৪৫ সালে। ১৯৪৭ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী বিষয়ে ভর্তি হন এবং তিন বছর নিয়মিত ক্লাসও করেন সেখানে। শেষ পর্যন্ত আর মূল পরীক্ষা দেননি। পাসকোর্সে বিএ পাস করে তিনি ইংরেজী সাহিত্যে এম এ (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেও শেষ পর্বের পরীক্ষায় অংশ নেননি।

জীবনানন্দ পরবর্তী বাংলা কবিতাকে আধুনিকতার পথে ধাবিত করায় তার ভূমিকাটি একেবারেই স্বতন্ত্র। বিশ শতকের তিরিশের দশকের পাঁচ মহান কবির পর তিনিই আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ হিসেবে প্রসিদ্ধ। ষাটের দশকে গোড়ার দিকেই কবি প্রতিভার বিচ্ছুরণে আলোকিত করেন সাহিত্যের ভুবন।

সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যেমন কবিতার ভাষায় প্রতিবাদ করেছেন, তেমনি মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত মানুষকে প্রেরণা দিয়েছেন কবিতার সৃষ্টিশীলতায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তার দুটি কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ একইসঙ্গে অনুপ্রেরণাদায়ী ও ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

পত্রপত্রিকায় লেখা তার চিত্রকল্পময় কবিতার সূত্র ধরে প্রথম গ্রন্থ প্রকাশের আগেই এপার-বাংলার কবিতাপ্রেমীদের নজর কাড়েন শামসুর রাহমান। ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’। কবির নিমগ্ন অন্তর্গত বোধ ও ভাবনার জগতের অপূর্ব রূপায়ন ছিল এই কাব্যগ্রন্থ।

এ ছাড়াও ষাটের দশকে প্রকাশিত কবির উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, নিরালোকে দিব্যরথ ও আমি অনাহারী। ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন কবি শামসুর রাহমান।

মহানবীর আদর্শ অনুসরণে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
এক সিনিয়র সহকারী সচিবকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
৬৪ জেলায় সরকারি খরচে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, দৈনিক ভাতা ২০…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
স্থবিরতা কেটে আলোর মুখ দেখল চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
৯ বছরেও ফেরা হয়নি রোহিঙ্গাদের, ক্যাম্পে বাড়ছে অপরাধ, ৪ হাজা…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
টেবিল টেনিসের উম্মুক্ত র‌্যাঙ্কিং টুর্নামেন্ট শুরু ১০ সেপ্ট…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬