চেনা যাচ্ছে না পরীক্ষার খাতায় শিক্ষার্থীদের লেখা অক্ষর, নাজেহাল শিক্ষকেরা

ভারতের মাধ্যমিক পরীক্ষা
ভারতের মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখা শুরু হয়েছে  © আনন্দবাজার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিকের অনেক উত্তরপত্রে অক্ষর চিনতে নাকাল হতে হচ্ছে শিক্ষকদের। খাতায় অনেকক্ষণ চোখ রেখে অনেকে উদ্ধার করতে পেরেছেন, অচেনা অক্ষরটি উল্টো করে লেখা ‘দ’। আবার ‘ই’ কারের মাথার দেওয়া হয়েছে চিহ্ন। অনেক খাতার পাতাজুড়ে একটি বর্ণও উদ্ধার করতে পারেননি শিক্ষকেরা। ফলে নম্বরও দিতে পারেননি।

করোনার কারণে দু’বছর স্কুল বন্ধ থাকার পরে পরীক্ষার খাতা দেখে শিক্ষকেরা দাবি করছেন, শিক্ষার্থীদের অনেকেই অক্ষর ভুলে গেছে। একটি বা দুটি নয়, খাতার এমন অক্ষরের সংখ্যা অজস্র। প্রাথমিকের বহু শিক্ষার্থী নিজেদের নাম লিখতে ভুলে গেছেন।

শিক্ষকেরা বলছেন, শুধু প্রাথমিক নয়, মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদেরও একই অবস্থা। জলপাইগুড়ির এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থীদের বাড়িতে স্মার্টফোন ছিল না কিংবা গৃহশিক্ষক পায়নি, তাদের দুবছর পড়াশোনাই হয়নি, হয়তো একটি লাইনও লেখেনি। সে কারণে অক্ষর ভুলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।’

মাধ্যমিকের এক খাতায় দেখা যায়, বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তর লিখেছে পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু তার পাঠোদ্ধার করা যাচ্ছে না। যিনি খাতা দেখেছেন, তিনি লিখে দিয়েছেন— ‘এ লেখা পড়া সম্ভব নয়’। শিক্ষকেরা লক্ষ করেছেন, তারা কিছু কিছু অক্ষর ভুলে গেছে।

আরো পড়ুন: হিজাব পরায় পরীক্ষা দেওয়া হলো না দুই ছাত্রীর

বাংলার এক শিক্ষকের ভাষ্য, ‘একজন পরীক্ষার্থী খাতায় বারবার ‘দ’ ও ‘গ’ ভুলভাবে উল্টে লিখেছে। একজন ‘ছ’ লিখতে গিয়ে ‘চ’ লিখেছে। অনেকে ‘শ’ ভুলে গেছে।’ এক পরীক্ষক বলেন, ‘একজন ‘জীবন’ শব্দটি লিখেছে ‘যীবন’। এক পরীক্ষার্থী প্রচুর লিখলেও কি লিখেছে, সেটি উদ্ধার করা যায়নি। তাই নম্বরও দিতে পারেননি।’

এক পরীক্ষার্থী খাতায় কিছুই লেখেনি, ছবি আঁকার চেষ্টা করেছে। পরীক্ষক বলেন, ‘হয়তো লিখতে ভুলে গেছে পরীক্ষার্থী। এ জন্য ছবি এঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সে জন্য নম্বর দেওয়ার নির্দেশ নেই।’

জলপাইগুড়িতে মাধ্যমিক পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সুব্রত রায় বলেন, ‘এ ধরনের বহু কিছুই নজরে এসেছে। সব কিছুর বিষয়ে জানানো হবে পর্ষদকে।’


x