৬০ শতাংশ জনগণ টিকা নেয়ার পরও করোনা বাড়ছে যে দেশে

০৯ মে ২০২১, ০৪:২৫ PM
দ্বীপদেশ সিশেলস

দ্বীপদেশ সিশেলস © ফাইল ফটো

পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপদেশ সিশেলসে বছরের শুরুতেই দেশটির জনগণকে বিনামূল্যে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু হয়। ইসরায়েল, যুক্তরাজ্যের চেয়েও বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে সিশেলসের জনগোষ্ঠীকে। দেশটির জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার হার যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দ্বিগুণ। এত টিকা দেওয়ার পরও এ সপ্তাহ থেকে দেশটিতে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। শনাক্তের হারে প্রায় ভারতের কাছাকাছি।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানা যায়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার সংক্রমণ বাড়ায় টিকার কার্যকারিতা নিয়ে তারা নতুন করে ভাবছেন। ভারত মহাসাগরের বিচ্ছিন্ন ছোট এই দ্বীপদেশ সিশেলসের অর্থনীতি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। সংক্রমণ বাড়ার ক্ষেত্রে পর্যটকদের আসা-যাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিশেলস ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক মিত্রদেশগুলোর প্রতি টিকা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ওয়াভেল রামাকালাওয়ান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সরকারের হার্ড ইমিউনিটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

প্রাথমিক পর্যায়ে এ উদ্যোগে সাফল্যও এসেছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে এমন দেশের কাতারে চলে এসেছে সিশেলস। দেশটির ৬০ শতাংশের বেশি জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সিশেলসে টিকা দেওয়ার হার প্রায় দ্বিগুণ।

তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সিশেলসের অর্জন অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়ে এ সপ্তাহে। চলতি সপ্তাহে দেশটিতে করোনা সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিশেলসের সরকার আবার বিধিনিষেধ জারি করতে বাধ্য হয়েছে।

কিছু টিকার কার্যকারিতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। হার্ড ইমিউনিটির জন্য আমাদের কী করা প্রয়োজন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। 

কয়েক বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে শনাক্ত করোনার নতুন ধরনের বিরুদ্ধে টিকা কম কার্যকর হবে। সিশেলসে এখন দিনে গড়ে ১০০ জন করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন। দেশটিতে এক লাখের কিছু কম লোকের বসবাস। তাই করোনায় শনাক্তের হারের দিক দিয়ে ভারতের চেয়ে সিশেলসের অবস্থা বেশি খারাপ।

সিশেলসের পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইকো-সলের পরিচালক ম্যালসিনি সেনারাটনে বলেন, করোনায় বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা সংক্রমণ বাড়ার কারণে আরও চাপে পড়বে।

করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ আবার বলবৎ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সিশেলসে। দেশটিতে স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে।

পাবলিক হেলথ কমিশনার জুড গেডেওন গত মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না করোনার এ সংক্রমণ কবে শেষ হবে। তবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন বিধিনিষেধগুলো কতটা মানা হচ্ছে, তার ওপর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নির্ভর করে।’

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশ্ব স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো ইয়ানঝং হুয়াং বলেন, কিছু টিকার কার্যকারিতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। হার্ড ইমিউনিটির জন্য আমাদের কী করা প্রয়োজন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

হুয়াং আরও বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের মতো অন্যান্য দেশেও জনসংখ্যার বড় একটা অংশকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এসব দেশে দৈনিক সংক্রমণের হারও কমেছে।

সিশেলসের পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী শেরিন ফ্রান্সিস বলেন, এমনকি যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে, তারাও করোনায় সংক্রমিত হতে পারেন। করোনায় গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যু প্রতিরোধ করতে টিকা বেশি কার্যকর। আশার কথা হলো, সিশেলসে সংক্রমণের তুলনায় মৃত্যু কম। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় এটা প্রমাণিত যে দেশটিতে টিকা খুব বেশি কার্যকর হয়নি।

সিশেলসে চীনের সিনোফার্মের ৬০ শতাংশ টিকা দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব টিকা গেছে। এ ছাড়া ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাও দেওয়া হয়েছে।

সিশেলস সরকার টিকা দ্রুত সরবরাহের জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সিশেলস করোনা ঠেকাতে কম কার্যকর, এমন দুটি টিকার ব্যবহার বন্ধ করেছে।

যারা সিনোফার্মের টিকা নিয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে তৃতীয় ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির সরকার বলছে, সিনোফার্মের টিকা খুব বেশি সুরক্ষা দিতে পারে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, খুব অল্পসংখ্যক মানুষের সিনোফার্মের টিকার তৃতীয় ডোজ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রায়ালে দেখা গেছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ৭৯ শতাংশ কার্যকর। ফাইজার ও মডার্নার তুলনায় সিনোফার্ম ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কম কার্যকর। ফাইজার ও মডার্নার টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর হতে পারে।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশ্ব স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো ইয়ানঝং হুয়াং বলেন, এটা বিস্ময়কর নয়, করোনার সংক্রমণ কমার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে যেটা বিস্ময়কর, সেটা হলো এপ্রিলের শেষের দিক থেকে সংক্রমণ বেড়ে গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, সিশেলসে পর্যটকেরা ফিরতে শুরু করার পর থেকে সংক্রমণ বেড়েছে। তবে পর্যটক বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার যোগসূত্র আছে কি না, সে ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গত ২৫ মার্চ থেকে পর্যটকদের জন্য সিশেলস উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। দেশটির অর্থনীতি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাংক বলছে, পর্যটন খাতে রাজস্ব কমে যাওয়ায় ২০২০ সালে দেশটিতে অর্থনৈতিক অর্জন ১৩.৫ শতাংশ কমেছে।

পর্যটন খাতে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর করোনার দৈনিক সংক্রমণ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। তবে দ্বীপদেশটিতে আসা পর্যটকদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশের করোনা শনাক্ত হয়।

একদিকে করোনার সংক্রমণ, অন্যদিকে পর্যটন খাতনির্ভর অর্থনীতি। পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইকো-সলের পরিচালক ম্যালসিনি সেনারাটনে বলেন, এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও সম্পদের ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হবে সিশেলস সরকারকে।

‘বিসিএসের প্রশ্ন তৈরির সময় ৪ দিন আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকতে হয়, …
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
৩৫৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করল মাউশি, তালিকা দেখুন এখানে
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
মাদ্রাসাশিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বাঙ্কার-টানেল বানিয়ে কোনো লাভ হবে না: সারজিস
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের ভিসা চালু আগামী সপ্তাহেই!
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬