স্তন্যপায়ী হয়েও ডিম পাড়ে, ঘামের মতো ঝরে দুধ—রহস্যে ভরা এই প্রাণী

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫০ AM
প্ল্যাটিপাস

প্ল্যাটিপাস © সংগৃহীত

স্তন্যপায়ী প্রাণী হয়েও ডিম পাড়ে—এই একটি তথ্যই অবাক করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিস্ময়কর প্রাণী প্ল্যাটিপাসের শরীরে লুকিয়ে আছে আরও বহু অজানা রহস্য। বিজ্ঞানীরা একে বিশ্বের সবচেয়ে ‘আশ্চর্যজনক’ স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করেন। এক শরীরে একাধিক প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এটি গবেষকদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

প্ল্যাটিপাসের বৈজ্ঞানিক নাম অর্নিথোরিঙ্কাস অ্যানাটিনাস। বর্তমানে পৃথিবীতে মাত্র দুটি স্তন্যপায়ী গোষ্ঠী রয়েছে যারা ডিম পাড়ে—প্ল্যাটিপাস এবং এচিডনা। এরা উভয়েই প্রাচীন ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যাদের মধ্যে বিবর্তনের প্রাচীন বৈশিষ্ট্য এখনো বিদ্যমান।

দেখতে প্ল্যাটিপাস কিছুটা পাখির মতো হলেও এর দেহ লোমে আবৃত, ঠোঁট হাঁসের মতো এবং লেজ বিভারের মতো। তবে অন্য স্তন্যপায়ীদের মতো এরা বাচ্চা প্রসব করে না, বরং ডিম পাড়ে এবং তা দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তা দেয়।

কেন ডিম পাড়ে

স্তন্যপায়ী প্রাণীর সংজ্ঞা অনুযায়ী তারা সাধারণত বাচ্চা প্রসব করে। কিন্তু প্ল্যাটিপাস সেই নিয়ম ভেঙে ডিম পাড়ে। গবেষকদের মতে, বিবর্তনের একটি পর্যায়ে এই গোষ্ঠীর পরিবর্তন ধীর হয়ে যাওয়ায় তাদের শরীরে সরীসৃপ ও পাখির বৈশিষ্ট্য রয়ে গেছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, তারা তাদের পূর্বপুরুষদের প্রজনন বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে, ফলে পাখি ও সরীসৃপের সঙ্গে তাদের মিল বেশি।

স্ত্রী প্ল্যাটিপাস নরম আবরণযুক্ত ডিম পাড়ে। ডিমের ভেতরেই ভ্রূণের বিকাশ সম্পন্ন হয়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলেও তারা অত্যন্ত অপরিণত অবস্থায় থাকে এবং সম্পূর্ণভাবে মায়ের ওপর নির্ভরশীল।

ঘামের মতো ঝরে দুধ

ডিম পাড়লেও প্ল্যাটিপাস যে স্তন্যপায়ী, তার প্রমাণ তাদের দুধ উৎপাদন প্রক্রিয়া। তবে এখানে রয়েছে আরেক বিস্ময়—স্ত্রী প্ল্যাটিপাসের কোনো স্তনবৃন্ত নেই।
গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি সরাসরি ত্বকের উপর খুলে যায় এবং বিশেষ নালীর মাধ্যমে দুধ বের হয়ে পেটের ত্বকের খাঁজে জমা হয়। বাচ্চারা সেখান থেকে চেটে দুধ খায়।
এই কারণে অনেকেই বলেন, প্ল্যাটিপাস ঘামের মতো দুধ ঝরায়। তবে এটি প্রকৃতপক্ষে ঘাম নয়, বরং শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ দুধ।

ঠোঁটেই শিকার ধরার ক্ষমতা

প্ল্যাটিপাস আধা-জলজ প্রাণী এবং পানির নিচে কাদামাটিতে শিকার করে। শিকারের সময় তারা চোখ, কান ও নাক বন্ধ রাখে। তবুও তারা দক্ষ শিকারি—এর মূল কারণ তাদের সংবেদনশীল ঠোঁট।

তাদের ঠোঁট পানির ভেতরে প্রাণীর নড়াচড়া থেকে তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম বৈদ্যুতিক সংকেত শনাক্ত করতে পারে। এই বিরল ক্ষমতার সাহায্যে তারা সহজেই শিকার ধরে।

বিবর্তনের এক অনন্য উদাহরণ

বিজ্ঞানীদের মতে, প্ল্যাটিপাস কোনো বিচ্ছিন্ন বা অদ্ভুত প্রাণী নয়; বরং লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের ফল। প্রকৃতি নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এই প্রাণীকে গড়ে তুলেছে।

বর্তমানে প্ল্যাটিপাস কেবল অস্ট্রেলিয়াতেই সীমাবদ্ধ এবং ধীরে ধীরে বিলুপ্তির ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই এদের সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানী মহল। [সূত্র: আনন্দবাজার]

বিসিবির হয়ে বিসিসিআইকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর চিঠি পাঠানোর অভ…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
মাভাবিপ্রবিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবির ফলাফল ওয়েবসাইটে ‘ম্যালওয়্যার আক্রমণ’, অনলাইন জুয়ার ব…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যদি আবার আলোচনায় বসতে চায়, কী করবে জানালেন ট্রাম্প
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বর্ষবরণে প্রস্তুত চবি, বর্ণিল আয়োজনে মুখর ক্যাম্পাস
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
এক ফোনেই ভেস্তে যায় ২১ ঘণ্টার সমঝোতা, জেডি ভ্যান্সকে কল করে…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬