আদালতের বারান্দায় আসামি © টিডিসি
মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামি রিগান হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রিগান হোসেন সদর উপজেলার তেরোঘরিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১০ মার্চ শোলমারি গ্রামের ওই শিশুটি পার্শ্ববর্তী তেরোঘরিয়া গ্রামে তার নানাবাড়িতে বেড়াতে যায়। ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটি নানাবাড়ির পাশে খেলছিল। এ সময় রিগান হোসেন চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একটি দোকানের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার পর শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে আসামি পালিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে রিগানের মা ছকিনা খাতুন রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে নানাবাড়িতে রেখে আসেন। জ্ঞান ফেরার পর শিশুটি বিস্তারিত ঘটনা জানায়। তাকে প্রথমে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। বিচার চলাকালীন আসামি নিজের দোষ স্বীকার করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট পল্লব ভট্টাচার্য ও ইব্রাহিম শাহীন আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।