ভারতের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাইকেল র্যালি © সংগৃহীত
ভারতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন দেশটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা এবং গোবরডাঙা এলাকার একাধিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাইকেল নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
সামাজিক, শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির প্রয়োজনীতার কথা মেনে নিয়ে মনোবিদেরাও বলছেন, স্বাস্থ্য বিপন্ন না করে এটা সুনিশ্চিত করার ভাবনা শুরু করা উচিত।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। সরকারি নির্দেশে অনলাইনে পঠনপাঠন চালু থাকলেও শহরতলি এবং গ্রামাঞ্চলের অনেক জায়গাতেই প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে পড়াশোনার প্রক্রিয়া।
বিক্ষোভে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, যেখানে শপিং মল খোলা, রাজনৈতিক মিছিল হচ্ছে, একাধিক রাজ্যে ভোট হয়েছে, কলকারখানা খোলা, ট্রেন চলছে, পরিবহণ ব্যবস্থা চালু, সেখানে বন্ধ শুধু শিক্ষাঙ্গন বন্ধ থাকবে কেন? করোনাবিধি মেনে অবিলম্বে শিক্ষাঙ্গন খুলে দিতে হবে।
গাইঘাটা স্কুলের প্রধান শিক্ষক অশোক পাল বলেন, ‘‘দীর্ঘ এক বছর হতে চলল স্কুল বন্ধ রয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা, বিশেষ করে প্রান্তিক জায়গায় থাকা পড়ুয়ারা খুব সমস্যায় পড়েছে। বিষয়টি এ বার বিবেচনা করা উচিত।’’
এভাবে স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ধীরে ধীরে অন্ধকারের দিকে চলছে বলে মনে করেন স্থানীয় স্কুল শিক্ষক শ্যামল গুহ। তিনি বলেন, ‘‘দিনের পর দিন স্কুল বন্ধ। ছাত্রছাত্রীরা কার্যত ঘরবন্দি। এতে তো পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে চলে যাচ্ছে।’’
অভিভাবকদেরও একই মত। প্রবীর চক্রবর্তী নামে এক অভিভাবকের কথায়, ‘‘দ্রুত স্কুল না খুলে যদি পঠনপাঠন শুরু হয় তা হলে ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। ওদের বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।’’ প্রদীপের মেয়ে রিয়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। করোনা বিধি মেনেই ছাত্রছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দাবিতে স্কুল খোলার দাবি জানান তিনি।
শিক্ষার্থীরা কী বলছে?
স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া নবনীতা মণ্ডলের কথায়, ‘‘বাড়িতে থেকে থেকে পড়াশোনার ইচ্ছেটাই চলে গিয়েছে। স্কুল খোলা থাকলে পড়ার একটা আলাদা আগ্রহ তৈরি হয় দেখেছি। গত কয়েক মাস ধরে সেটাই চলে গিয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গেও অনেক দিন দেখা হয়নি। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গেও নয়। তাড়াতাড়ি খুললে ভাল হয়।’’
এ ব্যাপারে মনোবিদ অনুত্তমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত, ‘‘স্কুল-কলেজের মতো জায়গায় সুরক্ষাবিধি কতটা মেনে চলা সম্ভব, তা নিয়ে একটা উদ্বেগ আছেই। করোনা আতঙ্কটা তো আমাদের এখনও ছেড়ে যায়নি। শিক্ষাঙ্গনগুলিতে সেই অর্থে শারীরিক দূরত্ব এবং পরিচ্ছন্নতা কতটা বজায় রাখা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সুস্থতা বিপন্ন করে তো এগনো ঠিক নয়।’’