যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং পাকিস্তানের পতাকা © সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ওয়াশিংটন-তেহরান প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফার বৈঠক ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চললেও, তেহরান এখন পর্যন্ত পরবর্তী দফার আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি।
ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের তথ্যমতে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নৌ-অবরোধের কারণে ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আলোচনার ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রধান শর্ত হলো যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক দাবি পরিহার করা; অন্যথায় ফলহীন এবং দীর্ঘসূত্রিতার আলোচনায় সময় নষ্ট করতে চায় না তারা। ইরানের এই অবস্থান ইতিমধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মাত্র এক দিন পরই তা আবার বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। তেহরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিবাদে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। প্রণালিটি বন্ধের ঘোষণার পরপরই সেখানে ভারতের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে ইরানি নৌবাহিনী। হামলার আগে রেডিও বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়, কৌশলগত এই নৌপথটি এখন থেকে সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
আরও পড়ুন: গাজার মতো করেই এবার লেবানন সীমান্তে ‘ইয়েলো লাইন’ ঘোষণা ইসরায়েলের
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি এক বার্তায় জানিয়েছেন, শত্রুদের ওপর নতুন পরাজয় চাপিয়ে দিতে তাদের নৌবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এদিকে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালিটি নিয়ে ‘লুকোচুরি’ খেলে ওয়াশিংটনকে জিম্মি করা যাবে না। বর্তমানে আরব সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ক্যানবেরা’র মাধ্যমে ইরানি বন্দরমুখী জাহাজগুলোর ওপর কঠোর অবরোধ জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরান সাফ জানিয়েছে, বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি বজায় থাকবে।
ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য পাকিস্তান নিরলস মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর শেষে ফিরে যাওয়ার পর ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ স্পষ্ট করেছেন, আলোচনার রূপরেখা ও ভিত্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ সম্ভব নয়।