ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত লেবাননের একটি আবাসিক ভবন © সৌজন্যে প্রাপ্ত
চলমান যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা টানার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। গতকাল শনিবার ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, গাজায় ব্যবহৃত বিভাজন রেখার আদলে এই সীমারেখা তৈরি করেছে তারা। এই লাইনের মাধ্যমে নিজেদের সেনাদের সম্ভাব্য হুমকি দূরে রাখা।
দশ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরদিনই ইসরায়েলের এমন ঘোষণায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় একই ধরনের ‘ইয়েলো লাইন’ ব্যবহার করছে ইসরায়েল, যেখানে ভূখণ্ডকে দুই ভাগে ভাগ করে একদিকে নিজেদের সেনা এবং অন্যদিকে হামাসকে অবস্থান করিয়েছে তারা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই হলুদ রেখা অতিক্রম করে আসা কয়েকজনকে তারা শনাক্ত করেছে। তাদের দাবি, উত্তর দিক থেকে ওই সীমা পেরিয়ে ‘সন্ত্রাসীরা’ এগিয়ে আসছিল এবং এতে তাদের সেনাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি হচ্ছিল।
এএফপি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা বলে, ‘আত্মরক্ষার্থে এবং হুমকি সরাতে আমরা হামলা চালিয়েছি।’ তারা আরও জানায়, ‘যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপে কোনো বাধা নেই।’
এরপর ওই এলাকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। তারা জানায়, দক্ষিণ লেবাননের অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা লাইনের কাছে একটি ‘সন্ত্রাসী দল’কে তারা নির্মূল করেছে। পাশাপাশি মাটির নিচে থাকা একটি সুড়ঙ্গে হিজবুল্লাহ সদস্যদের ঢুকতে দেখে সেখানেও হামলা চালানো হয়। তবে এসব হামলায় কতজন নিহত হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি তারা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। টানা ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এই বিরতি কার্যকর হয়। হিজবুল্লাহ জানায়, তারা আপাতত অভিযান বন্ধ রেখেছে, তবে তাদের ‘আঙুল এখনো ট্রিগারে’ রয়েছে।
এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সীমান্ত সমস্যার সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের কথা বলেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে লেবাননে বোমা হামলা চালাতে নিষেধ করেছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার কাজ এখনো শেষ হয়নি।’
লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছে এবং দক্ষিণ লেবাননের শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।