বিশ্বজুড়ে ইরানের জব্দ থাকা সম্পদের মূল্য কত?

১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৫ AM
 প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনার আগে নিজেদের দেশের জব্দ হওয়া সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন ইরানের নেতারা।

একইসঙ্গে এই যুদ্ধে ইরানের সম্পদের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে একটি চিঠি লিখেছেন।

এই চিঠিতে বিভিন্ন দেশের কাছে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

ইরান সরকারিভাবে এই দাবিগুলো জানালেও এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ থেকে এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইরানের রেভোলুশনারি গার্ড কোর বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাথে সম্পর্কিত সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আলোচনার টেবিলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছে।

রুশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতিমা মাহাজিরানি বলেছেন, "প্রাথমিক ও সতর্কভাবে করা হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের, তবে এই অংক আরও বাড়তে পারে।"

তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ফাতিমা মাহাজিরানি আরও বলেন, "ইরানি কর্তৃপক্ষের করা ক্ষয়ক্ষতির এই মূল্যায়নের মধ্যে ভবন ও অবকাঠামোর ক্ষতি এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ 

থাকার কারণে সৃষ্ট আর্থিক লোকসানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।"

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার (আইআরএনএ) তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ফাতিমা মাহাজিরানি।

তবে বিবিসি স্বতন্ত্রভাবে তার এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

ইরানের জব্দ করা সম্পদের বিষয়ে দেশটির আধা-সরকারি সংস্থা, প্রেস টিভি এবং বিবিসি নিউজের আগের প্রতিবেদনগুলো থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিবিসি উর্দু ওই সম্পদের বিস্তারিত কিছু বিবরণ তৈরি করেছে।

ইরান কীভাবে তাদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করেছে এই প্রতিবেদনে সেটি তুলে ধরা হয়েছে।

জব্দ করা সম্পদ

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার যখন ইরানের সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দেন তখন থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন রূপে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানি সম্পদ জব্দ করে রাখা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর জব্দ থাকা সম্পদের এই বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে এবং এক্ষেত্রে এটি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা প্রমাণের একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।

ইরানি সংবাদ সংস্থা প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৭ বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাতীয় সম্পদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আটকে রেখেছে।

এর মধ্যে তেলের রাজস্ব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এবং বাণিজ্যিক সম্পদও রয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে এসব সম্পদ প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি বা প্রেসিডেন্টের আদেশের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে এবং "রাজনৈতিক চাপে" ক্রমাগত এসব সম্পদ জব্দ বা আটকে রাখা হয়েছে।

ইরানি সম্পদ জব্দের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৭৯ সালের ১৪ই নভেম্বর। সেসময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোতে থাকা প্রায় আট বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানের সরকারি সম্পদ জব্দ করার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।

এই আদেশের আওতায় কেবলমাত্র ইরানি সরকারি অ্যাকাউন্টই নয় বরং এটি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত সকল ইরানি প্রতিষ্ঠানও ছিল।

প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে সিটি ব্যাংক, চেজ ম্যানহাটন, ব্যাংক অফ আমেরিকা, এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, বিএনপি পারিবাস, ডয়েচে ব্যাংক, কমার্স ব্যাংক, ক্রেডিট সুইস এবং বার্কলেসের মতো বড় বড় মার্কিন ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো ইরানের সাথে আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।

এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শুধু ব্যাংকিং খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং এটি শিল্প ও জ্বালানি খাতের জন্যও ছিলো।

শেল, টোটাল, ইএনআই, সিমেন্স, জেনারেল ইলেকট্রিক এবং বোয়িং এর মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলো ইরানে তাদের প্রকল্পগুলো মাঝপথে ছেড়ে চলে যায়।

এর ফলে অনেক প্রকল্প অসমাপ্ত থেকে যায় এবং ইরানের বড় অংকের পুঁজি আটকা পড়ে।

১৯৮১ সালের আলজিয়ার্স চুক্তির অধীনে জব্দকৃত সম্পদের কিছু অংশ ইরানকে ফেরত দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ ছিল এবং কঠোর শর্তসাপেক্ষ ছিল।

ইরান প্রায় তিন দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার ফেরত পেয়েছিল, এটি জব্দকৃত মূল অর্থের তুলনায় কম।

অবশিষ্ট টাকা আমেরিকান কোম্পানি এবং নাগরিকদের করা দাবির মেটানোর জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল।

প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় হেগ এ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়।

এই ট্রাইব্যুনাল এখনও দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আর্থিক ও বাণিজ্যিক বিরোধগুলোর শুনানি করে।

পারমাণবিক চুক্তি এবং সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল

ইরানের জব্দ করা মোট সম্পদের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই।

তবে বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে জব্দ করা ইরানের প্রথম বড় সম্পদ পরিমাণ ছিল প্রায় আট থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার।

২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তির মধ্যে হওয়া পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো নিষেধাজ্ঞা সত্যিকারের মতো শিথিল হওয়ার আশা সৃষ্টি করে।

এর ফলে বিদেশে ইরানের ঠিক কত টাকা আটকে আছে সেটি নিয়ে নানা রকমের এবং বিপরীতমুখী হিসাব সামনে আসতে থাকে।

এক সাক্ষাৎকারে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানি সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই হিসাব কমিয়ে ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে এনেছিলেন মি. ওবামা।

২০১৫ সালের আগস্টে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ভালি আসেফ জানান, ইরানের জব্দ হওয়া সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে ২৩ বিলিয়ন ডলার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ছিল।

বাকি ছয় বিলিয়ন ডলার ভারতের কাছে তেল বিক্রির রাজস্ব আয় ছিল।

পারমাণবিক চুক্তির আওতায় সম্পদ পুনরুদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য হলেও সেটি অসম্পূর্ণ ছিল।

এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান তাদের জব্দ হওয়া প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিল।

যেগুলোর বেশিরভাগই অ্যাস্ক্রো অ্যাকাউন্টে জমা ছিলো।কিন্তু এই স্বস্তি সাময়িক ছিল।

২০১৮ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে দেশটি একতরফাভাবে এই পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যায় এবং ইরানের ওপর পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এর ফলে মাত্র তিন বছর আগে ফিরে পাওয়া সম্পদগুলো আবারও ফ্রিজ বা জব্দ হয়ে যায়।

কাতার: বন্দি বিনিময় এবং পুনরায় সম্পদ জব্দ

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া বন্দি বিনিময়ের ঘটনাটি আবারো ইরানের আটকে থাকা সম্পদের ইস্যুটিকে বিশ্ববাসীর নজরে আনে।

কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ছয় বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলার মূল্যের তেলের রাজস্ব আয় কাতারের 

রাজধানী দোহার 'রেস্ট্রিকটেড বা নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে' হস্তান্তরের অনুমতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ইরানের তেল বিক্রির আয় থেকে এই টাকা এসেছে।

যা কিনা ২০১৮ সালে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই জমা হয়েছিল।

কাতারি ব্যাংকগুলোতে এই টাকা রাখার ক্ষেত্রে একটি কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

এটি হলো, এই টাকা শুধুমাত্র খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কৃষিপণ্যের মতো মানবিক পণ্য কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

একইসঙ্গে প্রত্যেকটি পেমেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। যাতে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই টাকা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে না।

২০২৩ সালের বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, এই টাকা ইরানকে খুব 'সীমিত সুবিধা' দেবে।

কারণ এই টাকা শুধুমাত্র মানবিক বাণিজ্যে ব্যবহার করা যাবে।

এই বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আটক থাকা পাঁচ ইরানি নাগরিককেও মুক্তি দেওয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কাতারের আমির যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে তেহরানে দেখা করেন, তখন তিনি দোহায় জব্দ থাকা ইরানের তেলের রাজস্ব আয়ের সেই ছয় বিলিয়ন ডলার ছাড় করার দাবি জানান।

তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আবারও বদলে যায়।

ইরান যাতে এই ফান্ড বা অর্থ ব্যবহার করতে না পারে সে কারণে তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিতে কাতারকে নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

এর ফলে ওই ছয় বিলিয়ন ডলারের অর্থ আবারও ইরানের প্রাপ্তি ক্ষমতার বাইরে চলে যায়।

সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের আস্থা অর্জন করা সহজ নয়। কারণ বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কারণে বিভিন্ন দেশে ইরানের সম্পদ জব্দ হয়ে আছে।

তার মতে, ইরান তাদের দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে পালন করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ইরানের আস্থা অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সুনির্দিষ্ট বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

আব্বাস আরাঘচি এটা স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের আটকে বা জব্দ থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া একটি নন-নেগোশিয়েবল শর্ত এবং এই শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা থেকেই বড় ধরনের অগ্রগতির আশা করা যায় না।

সুখবর পেলেন ৬১৮ বিসিএস ক্যাডার, দেখুন তালিকা
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউআইইউতে পিএলসি ল্যাব উদ্বোধন এবং ‘মাস্টারিং পিএলসি অ্যান্ড…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে নদীতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিল্পবর্জ্য-পলিথিন দূষণে মৃতপ্রায় তুরাগ, হুমকিতে জীববৈচিত্র…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তান ক্রিকেটে যে ৩ সংকট দেখছেন ডি ভিলিয়ার্স
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলে সাপের উপদ্রব, মেডিকেলে …
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9