© সংগৃহীত
জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার প্রতিবাদে কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। সোমবার বিকেলে কলকাতা প্রেসক্লাবের সামনে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে কলকাতার ভাষা ও চেতনা সমিতি।
কলকাতা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্য, ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক ইমানুল হক, হকার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শক্তিমান ঘোষ প্রমুখ কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান।
বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে বিজেপি সরকার ভারতের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। অধ্যাপক ইমানুল হক বলেন, এভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা যায় না। এটা বিজেপি সরকারের সংবিধানের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা।
৩৭০ ধারা বাতিলের প্রতিবাদ করেছে সিপিএম ও কংগ্রেস। গতকাল বিকেলে সিপিএম ধর্মতলা থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিলে যোগ দেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, পলিটব্যুরো সদস্য সাবেক সাংসদ মহম্মদ সেলিম প্রমুখ।
এদিন দিল্লিতেও বামফ্রন্ট প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিলে ছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, প্রকাশ কারাত, বৃন্দা কারাত, হান্নান মোল্লা, ডি রাজা প্রমুখ। কলকাতায় ফরোয়ার্ড ব্লকও প্রতিবাদ মিছিল করেছে। প্রতিবাদ মিছিল বের করে এসইউসিআই ও সিপিআই এমএল-লিবারেশন।
বাম দলগুলো ঘোষণা দিয়েছে, ৭ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তারা রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করবে। দাবি তুলবে ভারতের অখণ্ডতা রক্ষার।
সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু মোদি সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তে কাশ্মীর আরও অশান্ত হলো।’
বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেছেন, ‘এই ঘটনা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর ভয়ংকর আক্রমণ। এর কারণে দেশের ঐক্য ও নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়বে।’
কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সোমেন মিত্র বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করে মোদি সরকার নির্বাচিত রাজ্য সরকারগুলোর ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘সাংবিধানিক ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের অখণ্ডতার ওপরে মোদি সরকার কি আঘাত হানতে চলেছে?’