অনামিকা মণ্ডল © সংগৃহীত
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। এবার পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে পুলিশের কাছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অনামিকার বাবা যাদবপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তোলেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এর আগে সকালেই তিনি লালবাজারে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের কাছে একটি পুকুর থেকে অনামিকার দেহ উদ্ধার হয়। উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার বাসিন্দা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ড্রামা ক্লাবের অনুষ্ঠান চলাকালীনই নিখোঁজ হন অনামিকা। রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁকে পুকুরে ভাসতে দেখেন ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীরা। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, ডুবে মৃত্যু হয়েছে অনামিকার। তবে তিনি অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি তাঁকে কেউ ঠেলে ফেলে দিয়েছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। আত্মহত্যার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে পরিবার এই তত্ত্ব মানতে নারাজ।
ঘটনার পর থেকেই নানা প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে। অনুষ্ঠানের সময় ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন, ছিল সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তারক্ষীও। তবুও কীভাবে অনামিকা পুকুরপাড়ে গিয়ে পড়লেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক দল বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে। ক্যাম্পাসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও যে পুকুর থেকে দেহ উদ্ধার হয়, তার দিকে কোনো ক্যামেরা ছিল না।
পুলিশ ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখছে। অনামিকার বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, মদ্যপান বা মাদক গ্রহণের বিষয়টি জানতে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। যদিও তদন্তকারীরা এখনও পর্যন্ত খুনের প্রমাণ পাননি বলে লালবাজার সূত্রে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা