ট্রাম্প © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের চিন্তা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউস আবারও পুরোনো নাম ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ বা ‘যুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ ফিরিয়ে আনার আলোচনা শুরু করেছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবের পর হোয়াইট হাউস ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্সের পরিবর্তে আবার ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার নাম চালু করার বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবছে।
সরকারের সবচেয়ে বড় এই দপ্তরের নাম পরিবর্তনে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিকল্প উপায়ে এটি কার্যকর করার পথও খুঁজছে হোয়াইট হাউস। ইতিমধ্যে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্রেগ স্টুব বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিলে একটি সংশোধনী দাখিল করেছেন। এতে প্রমাণ হয়, কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ ধারণার প্রতি সমর্থন রয়েছে।
যদিও হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত জানায়নি। তবে তারা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়েছে, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ওপর জোর দেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বলেছেন, আমাদের সামরিক বাহিনী শুধু প্রতিরক্ষার জন্য নয়, আক্রমণাত্মক সক্ষমতার দিকেও মনোযোগী হওয়া উচিত। সে কারণেই তিনি পেন্টাগনে ডিইআই ও ‘ওয়োক’ মতাদর্শের পরিবর্তে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত সৈন্যদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অপেক্ষা করুন, আরও আসছে।’
এর আগে গত সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘ওয়ার ডিপার্টমেন্ট’ রাখা হলে এটি আরও শক্তিশালী শোনাবে। তার ভাষায়, ‘আগে একে ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার বলা হতো এবং তা আরও শক্তিশালী শোনাতো। আমরা প্রতিরক্ষা চাই, তবে আক্রমণও চাই। যখন এটি ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার ছিল, আমরা সব যুদ্ধে জয়ী হয়েছি। আমার মনে হয়, আমাদের আবার সেই অবস্থায় ফিরে যেতে হবে।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হয়ে ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স হয়। ১৯৪৭ সালের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে একীভূত করে ন্যাশনাল মিলিটারি এস্টাবলিশমেন্ট গঠন করে। পরে ১৯৪৯ সালে আইনের সংশোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স নাম চালু হয়, যা আজও বহাল রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর আরও আক্রমণাত্মক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাদের অনেকেই ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন।