বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের জারি করা বেশিরভাগ শুল্ক নীতি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের

৩০ আগস্ট ২০২৫, ১০:৩০ AM , আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২৮ AM
ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প © সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা বৈশ্বিক শুল্কের বেশিরভাগ অবৈধ বলে রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত। এই রায় ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই রায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের ওপর প্রভাব ফেলবে। সেই সাথে চীন, মেক্সিকো এবং কানাডার ওপর আরোপিত অন্যান্য শুল্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সাত-চার ভোটে দেওয়া এক রায়ে ইউএস ফেডারেল সার্কিট কোর্ট ট্রাম্পের যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে এসব শুল্ক অনুমোদিত নয়। যে কারণে আদালত এই রায়কে আইনের পরিপন্থী ও অবৈধ বলেও উল্লেখ করেছে। এই রায় ১৪ই অক্টোবরের আগে কার্যকর হবে না, যাতে প্রশাসন চাইলে সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি নেওয়ার জন্য আবেদন করার সময় পায়।

ট্রাম্প আপিল আদালতের রায়কে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে, তা সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেবে।’ যেখানে তিনি আরও বলেছেন, ‘অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট একটি আপিল আদালত ভুলভাবে বলেছে আমাদের শুল্ক তুলে নেওয়া উচিত। কিন্তু তারা জানে, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হবে।’

ট্রাম্প সতর্ক করে লিখেছেন, ‘এই শুল্ক যদি কখনো তুলে নেওয়া হয়, তা হবে দেশের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয়। এতে আমেরিকা আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু আমাদের শক্তিশালী থাকতে হবে’।

ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন বা আইইইপিএ'র অধীনে শুল্ক আরোপের ন্যায্যতা প্রমাণ করেছিলেন। যা একজন প্রেসিডেন্টকে অস্বাভাবিক হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেয়।

তিনি বাণিজ্যে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দাবি করেছিলেন, বাণিজ্য ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু নতুন রায়ে আপিল আদালত বলেছে, শুল্ক আরোপ করা প্রেসিডেন্টের এখতিয়ার নয়। এটি কংগ্রেসের মূল ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।

রায়ে মার্কিন ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত ট্রাম্পের সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার আওতায় শুল্ক আরোপ বৈধ। কিন্তু আদালত স্পষ্ট বলেছে, এই শুল্কগুলো 'অবৈধ ও আইনের পরিপন্থী'।

১২৭ পৃষ্ঠার বিস্তারিত রায়ে বলা হয়, আইইইপিএ কোথাও 'শুল্ক' কিংবা এর কোন প্রতিশব্দ উল্লেখ করেনি। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতায় স্পষ্ট সীমা টানার মতো কোনো প্রক্রিয়াগত সুরক্ষাও এতে নেই। তাই আদালতের মতে, কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতেই বহাল থাকবে।

রায়ে আদালত আরো বলেছে, '১৯৭৭ সালে কংগ্রেস যখন এই আইনটি পাশ করেছিল তখন অতীতের অনুশীলন থেকে সরে এসে রাষ্ট্রপতিকে শুল্ক আরোপের সীমাহীন কর্তৃত্ব প্রদানের উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছিল বলে মনে হয় না'।

আদালত রায়ে লিখেছে, 'যখনই কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিতে চায়, তখন সেটি স্পষ্টভাবে কখনো 'ট্যারিফ' বা 'ডিউটি'র মতো সুস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য জোটের দায়ের করা দুইটি মামলার প্রেক্ষিতেই এই রায় দিয়েছে আদালত। ওই মামলাগুলো হয়েছিল গত এপ্রিলে দেওয়া নির্বাহী আদেশের পর। সেই আদেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ মূল শুল্ক এবং আরও ডজনখানেক দেশের ওপর "পারস্পরিক শুল্ক" আরোপ করেছিলেন। এবং ওই দিনটিকে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন আমেরিকার "অন্যায্য বাণিজ্যনীতির হাত থেকে মুক্তির দিন" হিসেবে।

এরপর মে মাসে নিউইয়র্কভিত্তিক কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড রায় দিয়েছিল, এসব শুল্ক অবৈধ। তবে আপিল প্রক্রিয়া চলার কারণে সেই রায় স্থগিত রাখা হয়। শুক্রবারের রায়ে শুধু বৈশ্বিক শুল্কই নয়, কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর আরোপিত শুল্কও বাতিল করা হয়েছে। আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এসব শুল্ক মাদক আমদানি ঠেকাতে খুব জরুরি ছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপিত শুল্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ সেগুলো ভিন্ন ক্ষমতাবলে আরোপ করা হয়েছিল।

রায় ঘোষণার আগে হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, এসব শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করা হলে তা ১৯২৯ সালের মহামন্দার মতো আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

তারা এক চিঠিতে লিখেছিলেন, 'আইইইপিএ এর আওতায় প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা হঠাৎ বাতিল করা হলে তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, বৈদেশিক নীতি ও অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে'।

আইনজীবীরা আরও যুক্তি দেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বাস যদি এসব শুল্ক বাতিল হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি দেশগুলোর কাছে অঙ্গীকার করা ট্রিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে পারবে না, যা অর্থনৈতিক ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। রায়ের ফলে এখন প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক কমানোর চুক্তি যেসব দেশ করেছিল, সেই চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে!

এখন যদি সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি বিবেচনায় নেয়, তবে নয়জন বিচারপতি ঠিক করবেন, ট্রাম্পের শুল্ক কর্মসূচি আইনসিদ্ধ কিনা, নাকি এটি প্রেসিডেন্টের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আরেকটি নজির।

যদিও আপিল আদালতের রায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হেরে গেছেন। হোয়াইট হাউজ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে এই ভেবে যে আদালতের ১১ জন বিচারপতির মধ্যে মাত্র তিনজন রিপাবলিকানদের নিয়োগপ্রাপ্ত। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে যে ছয়জন রিপাবলিকান নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতি রয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনজন ট্রাম্পের নিয়োগকৃত। ফলে সর্বোচ্চ আদালতে মামলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও রাজনৈতিক প্রভাব সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আওয়ামী লীগের আরও এক এমপি আটক
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মোবাইলের কিস্তি দিতে না পারায় যুবককে তুলে নিয়ে রক্ত নেওয়ার …
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেনাপোলে ভারতীয় ইলিশ, যশোরের বাজারে ‘মিয়ানমারের’ নামে বিক্র…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গণতন্ত্রের সূচকে ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে যুক্তরাষ্ট্র
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌরবিদ্যুতে চলছে ২ হাজার শিক্ষার্থীর স্কুল, বিল ৩০ হাজার থে…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9