উত্তর প্রদেশে স্কুলের পাঠ্যবই থেকে বাদ যাচ্ছে মুঘল ইতিহাস

০৪ এপ্রিল ২০২৩, ০৮:৫৩ PM , আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৬ AM

© সংগৃহীত

মুঘল ইতিহাস পড়ানোর বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশের যোগী সরকার। মুসলিম এই শাসকদের বিরুদ্ধে নানা সময় সমালোচনা করে বক্তব্যও দিয়েছেন দলটির নেতারা। এখন তারা উদ্যোগ নিয়েছেন পাঠ্যবই থেকে মুঘলদের ইতিহাস বাদ দেওয়ার। ইতোমধ্যেই দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাসেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির বইয়ের ভারতীয় ইতিহাস-২-এর কিছু বিষয় থেকে মুঘল দরবার এবং শাসক-সম্পর্কিত পাঠটি সরিয়ে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত আকবরনামা, বাদশাহনামা, পাণ্ডুলিপির রচনা, মোগল সম্রাট ও তাদের সাম্রাজ্য, আদর্শ রাষ্ট্র, উপাধি, রাজকীয় আমলাতন্ত্র, রাজপরিবার, তথ্য ও সাম্রাজ্য, মুঘল অভিজাততন্ত্র এবং আনুষ্ঠানিক ধর্ম শেখানো হতো।

বিভিন্ন সময়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও দাবি করেছেন, মুঘল বহিরাগত। গেরুয়া শিবিরের বরাবরের দাবি, বহিরাগত ইসলামিক শাসকদের বাদ দিয়ে মৌর্য, গুপ্তদের মতো হিন্দু তথা ‘ভারতীয়’ শাসকদের গুরুত্ব দিয়ে নতুন ইতিহাস লিখতে হবে, পড়তে হবে। সেই কথামতো কাজ শুরু হয়ে গেল যোগীর রাজ্যে। উত্তর প্রদেশ দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা আর মুঘল ইতিহাস পড়বে না। 

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার নিজেদের রাজ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। এরপর এক প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

মুঘলদের চোর মন্তব্য করে তিনি বলেন, এনসিইআরটি থেকে মুঘলদের মিথ্যা ইতিহাস মুছে ফেলা একটি দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত। চোর, পকেটমার ও দুই পয়সা রোড রেইডারদের মুঘল সালতানাত ও ভারতের সম্রাট বলা হত। আকবর, বাবর, শাহজাহান, আওরঙ্গজেব ইতিহাসের বইয়ে নেই, ডাস্টবিনে আছে।

একটি টুইটে মিশ্র বলেন, মুঘল সাম্রাজ্যের মিথ্যা দাবি সংশোধন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে মুঘলদের মিথ্যাচার মুছে ফেলা হচ্ছে। এখন পরবর্তী পর্বে তাদের সত্যতা জানানো হবে। মুঘলদের লুটপাট, ব্যাভিচার, নৃশংসতা, কাপুরুষতা, মন্দির ও মূর্তি বিদ্বেষ, তাদের প্রকৃত কন্যা-বোনদের সাথে তাদের সম্পর্ক, তাদের সন্তানরা মাতাল ও হারেমে যেসব কাজ করতো, তাদের শিল্প, সাহিত্য ও সঙ্গীতের প্রতি ঘৃণাও সবাইকে জানানো উচিত।

জানা গেছে ইতিহাসের পাঠ্য বই থেকে বাদ পড়ছে মুঘল শাসন-সম্পর্কিত অংশ। দ্বাদশ শ্রেণির নাগরিক বিজ্ঞানের বই থেকে আমেরিকান আধিপত্য ও ঠান্ডা যুদ্ধ-সম্পর্কিত লেখাটি মুছে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে দশম শ্রেণির বই থেকে গণসংগ্রাম ও আন্দোলন, গণতন্ত্র ও বৈচিত্র্য এবং গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জের পাঠ মুছে ফেলা হয়।

একাদশ শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে ‘সেন্ট্রাল ইসলামিক ল্যান্ডস’, ‘কনফ্রন্টেশন অব কালচারস’, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশন’ অধ্যায়গুলো। পাঠ্যবইয়ের এ অংশেই মুঘল সম্রাট এবং তাঁদের শাসনকাল-সম্পর্কিত যাবতীয় ঐতিহাসিক তথ্য ছিল।

শিক্ষা দপ্তর বলছে, মুঘল দরবারের লেখা মুছে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া একাদশ শ্রেণির ইতিহাস বই থেকে ইসলামের উত্থান, শিল্প বিপ্লব, সংস্কৃতির সংঘর্ষ এবং সময়ের সূচনা বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে, নাগরিক বিজ্ঞান বই থেকে কোল্ড ওয়ার ও আমেরিকান আধিপত্যের পাঠও মুছে ফেলা হয়েছে।

আগে থেকেই দেশটিতে আকবরনামা, বাদশাহনামা, পাণ্ডুলিপির রচনা, মুঘল সম্রাট ও তাদের সাম্রাজ্য, আদর্শ রাষ্ট্র, উপাধি, রাজকীয় আমলাতন্ত্র, রাজপরিবার, তথ্য ও সাম্রাজ্য, মুঘল অভিজাততন্ত্র ও আনুষ্ঠানিক ধর্ম শেখানো হতো।

তবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে, এনসিইআরটি দ্বাদশ শ্রেণির বইয়ের ভারতীয় ইতিহাস-২-এর কিছু বিষয় থেকে মুঘল দরবার ও শাসক সম্পর্কিত পাঠ্যটি সরিয়ে দিয়েছে।

ট্যাগ: ভারত
এসএসসি পরীক্ষার কন্ট্রোল রুম চালু, যোগাযোগের নম্বর দেখুন এখ…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাই হোক সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড: গাকৃবি ভ…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজেই আবেদন করবেন যেভাবে
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
রিমান্ড নামঞ্জুর করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নাসিমকে কারাগারে পা…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নারী শক্তির কমিটিতে নিজের নাম দেখে বিস্মিত, লিখিত পদত্যাগপত…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬