টুইটার কেনার অর্থ দিয়ে দেশে কি কি করা যেত

টুইটার কেনার অর্থ দিয়ে দেশে কি কি করা যেত
দেশের মেগা প্রজেক্ট   © টিডিসি ফটো

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে  টুইটার কিনলেন ইলন মাস্ক। এই মাইক্রো ব্লগিং সাইটটি কিনতে মাস্কের খরচ পড়েছে ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। গোটা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আছে ৪৪ বিলিয়ন ডলার। অথচ ইলন মাস্ক একাই ৪৪ বিলিয়ন ডলার দিয়ে টুইটার কিনে ফেলেছেন। 

এই পরিমাণ টাকার ওজন হবে ৪৩ লাখ ৬৩ হাজার কেজি। ইলন মাস্ক যদি ১০০০ টাকা নোটের মাধ্যমে দাম পরিশোধ করেত চান তাহলে এত টাকা পরিবহন করতে ৮৫৮টি ট্রাক লাগবে। এসব ট্রাক পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে গেলে টোল দিতে হবে ২৪ লাখ ৪ হাজার টাকা।

বর্তমানে বাংলাদেশে কয়েকটি মেগা প্রজেক্টের কাজ চলছে। তার মধ্য আছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেল। ইলন মাস্ক যদি টুইটার না কিনে দেশের এসব প্রজেক্টে বিনিয়োগ করতো তাহলে এগুলো কয়টি করে নির্মাণ করা যেতো সেটা দেখে নিই।

পদ্মা সেতু
প্রথমে পদ্মা সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। পরে আরও ব্যয় বাড়ানো হয় আট হাজার কোটি। ফলে পদ্মা সেতুর ব্যয় দাঁড়িয়েছে সব মিলিয়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। সেই হিসেবে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৯২ কোটি টাকা দিয়ে ৬টি পদ্মা সেতু বানানো যেতো। যদি এই টাকা দিয়ে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু বানানো হতো তাহলে ১০২ টি বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মাণ করা যেতো। 

আরও পড়ুন: চাকরি হারালে টুইটারের সিইও কত টাকা পাবেন

মেট্রোরেল 
এমআরটি-১ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত মোট ৩১.২৪ কিলোমিটার পথে মেট্রোরেল নির্মিত হচ্ছে। এ প্রকল্পের মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান সরকার দেবে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা, বাকি ১৩ হাজার ১১১ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে। টুইটার ক্রয়ের সমপরিমাণ টাকা দিয়ে মেট্রোরেলের মত ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে। 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
বাংলাদেশের অন্যতম মেগা প্রজেক্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় এখন সরকারি হিসাবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। সেই হিসেবে তিনটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ সম্ভব।

বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেল
বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেল হল কর্ণফুলী নদীর নিচে অবস্থিত নির্মাণাধীন সড়ক সুড়ঙ্গ। এই সুড়ঙ্গটি কর্ণফুলী নদীর দুই তীরের অঞ্চলকে যুক্ত করবে। এই সুড়ঙ্গ মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যুক্ত হবে। বঙ্গবন্ধু টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৪৩ কিলোমিটার। একদফা বাড়িয়ে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। সেই হিসেবে ৪৫টি কর্ণফুলি বঙ্গবন্ধু টানেল বানানো যেতো।


x