তিন বছর আগে ঢাকা থেকে হারিয়ে যান ফিরোজা বেগম (৫৫) নামের এক নারী। খিলগাঁওর নন্দিপাড়ার বাসা থেকে হারিয়ে যাওয়ার পর স্বামী আর ছেলেরা মিলে হন্য হয়ে খুঁজেছেন সম্ভাব্য সকল স্থানে। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় ফিরোজাকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় ফিরোজা বেগম ফিরেছেন পরিবার।
গতকাল শনিবার সিলেট জেলা পুলিশ তার ছেলে মো. সুমন মিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে ফিরোজা বেগমকে। হারানো মাকে ফিরে পেয়ে আনন্দাশ্রু গড়ালো সুমনের চোখে। ফিরোজা বেগমের চোখেমুখেও ছিল স্বজনের কাছে ফেরার আনন্দ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজা বেগমকে ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করে। পরে বাংলায় কথাবার্তা শুনে তাঁকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করে। বিজিবির সদস্যরা তাঁকে কোম্পানীগঞ্জ থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। বারবার জিজ্ঞেস করার পর তিনি স্বামীর নাম ও বরগুনার ঠিকানা বলেন। পরে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় ফিরোজা বেগমের স্বামীর সন্ধান পাওয়া যায়। বাবার কাছ থেকে ছেলে সুমন মায়ের কথা জানতে পারেন।মাকে নিতে তিনি গতকাল সিলেটে যান।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. লুৎফর রহমান বলেন, 'শনিবার সকালে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানায় গিয়ে ছেলে মাকে পেয়েছেন। মাকে নিয়ে ফিরে গেছেন ছেলে। মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও মা ছেলেকে চিনতে পেরেছেন। দীর্ঘদিন পর মা-ছেলে একে অপরকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। অন্যরাও চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি।' মা–ছেলেকে ফিরে গিয়ে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে।