ঢামেকের ডা. শহীদুল ইসলাম আকন
ডা. শহীদুল ইসলাম আকন © টিডিসি সম্পাদিত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিষেধ অমান্য করে আহতদের চিকিৎসা দেওয়ায় সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে বদলি হয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম আকন। অন্তর্বর্তী সরকার সেই বদলি আদেশ বাতিল করে। প্রায় দুই বছর পর আবারও অদ্ভূত বদলি আদেশ পেলেন সেই চিকিৎসক।
এবার তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সুপার স্পেশালাইজড একটি বিভাগের এই শিক্ষক-চিকিৎসককে সংযুক্ত করা হয়েছে একটি জেনারেল হাসপাতালে, যেখানে শিক্ষকতা কিংবা অর্জিত জ্ঞান দিয়ে মানুষকে সেবাদানের সুযোগ নেই।
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ শাখা থেকে যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলি আদেশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এতদিন ইনসিটু অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এই সহযোগী অধ্যাপককে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বদলি করা হয়েছে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে।
এদিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, ডা. শহীদুল ইসলাম আকন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. ফজলে রাব্বি হল ছাত্রাবাস সহ-প্রভোস্ট হিসেবে রয়েছেন। তার বদলির ফলে ছাত্রাবাসের যেকোনো সমস্যায় ত্বরিত সহযোগিতাও বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
তারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় আওয়ামী রোষানলে স্পাইন সার্জারির সহযোগী অধ্যাপককে বদলি করা হয়েছিল বায়োকেমিস্ট্রিতে। পরবর্তীতে মেডিকেল স্টুডেন্টদের মুভমেন্টের ফলে ইন্টেরিম সরকার সেই নোটিশ বাতিল করে। আজকে বর্তমান সরকার আবারও সেই স্পাইন সার্জারির অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম আকন স্যারকে ওএসডি করেছে এবং এমন একটি হাসপাতালে সংযুক্ত করে দিয়েছে যেখানে এই শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষকের পড়ানোর মতো স্টুডেন্ট নেই এবং তাঁর বিভাগের সার্জারি করার মতো ফ্যাসিলিটিসও নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডা. ফজলে রাব্বি হলের এক শিক্ষার্থী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, স্যার অনেক ছাত্রবান্ধব ছিলেন। আমাদের যে কোনো সমস্যায় স্যার খুব দ্রুত রেসপন্স করতেন। এরকম একটি মানুষকে এভাবে অপমানজনক বদলি করা হলে কেউ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে সাহস পাবে না।
ঢামেক হাসপাতালের একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জুলাইয়ে অবদানের জন্য যাকে পোস্টিং দিয়ে হয়রানি করা হলো, সেই যোদ্ধাকে এখন ডিএমসি থেকে সরানো কি এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেকোনো সমস্যায় পড়লে বিদ্যুৎ গতিতে একজন মানুষ রেসপন্স করতেন। আফসোস! আমরা গুণী মানুষের কদর করতে পারলাম না। কাঁধে হাত রেখে ভাই বলে আশ্বাস দেওয়া মানুষটা আমাদের ছেড়ে চলে যাক এটা কখনই চাই না। যেকোন মূল্যে স্যারকে ডিএমসিতে চাই।
এর আগে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ২০২৪ সালের ২৫ মে একসঙ্গে ঢামেকের ৫ চিকিৎসককে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়। পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে এসব চিকিৎসককে নিজ স্পেশালিটির বাইরে অন্য বিষয়ে বদলি করায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে ওই বছরের ৮ আগস্ট তাদের বদলি আদেশ বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার।