প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ বছর নির্বাচনকে সামনে রেখে অফলাইনের পাশাপাশি জোর প্রচারণা চলছে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে। এর পাশাপাশি টিকটক-ইউটিউব-ইনস্টাগ্রামেও প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব গত কয়েক বছর ধরেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; যার সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা যেতে পারে এবারের নির্বাচনে। চলুন দেখে নেওয়া যাক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের অফিসিয়াল ফেসবুক ফলোয়ার সংখ্যা কত?
মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিমের অফিসিয়াল কোনও ফেসবুক পেজ নাই। কোনও তথ্য বা বিজ্ঞপ্তি দলটির অফিসিয়াল পেজে প্রকাশ করা হয়। দলটির একটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে জানায়, মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে। তার সামাজিক মাধ্যমে কোনও অ্যাকাউন্ট নাই। তবে তার নামে চরমোনাই সমর্থকরা বেশ কিছু ফেসবুক পেজ-গ্রুপ চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে রয়েছে ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ফলোয়ার। ইসলামী আন্দোলনের ‘এক্স’অ্যাকাউন্টে ৫৮৬, ইনস্টাগ্রামে ৩ হাজার ১৭৪ রয়েছে। তাদের ফেসবুকে কোনও অ্যাকাউন্ট লিংক করা না থাকলেও টিকটকে ২০ হাজার ৩০০ ফলোয়ারের একটি অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া যায়।
মজিবুর রহমান মঞ্জু (৯৫ হাজার)
আমার বাংলাদেশ তথা এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর ফেসবুক ফলোয়ার সংখ্যা ৯৫ হাজার। জুলাই ২০০৯-এ খোলা এই অ্যাকাউন্টটির মাধ্যমেই মূলত নিজের রাজনৈতিক নানা বিষয় শেয়ার করে থাকেন জনপ্রিয় এই তরুণ নেতা। মজিবুর রহমান মঞ্জু এবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ফেনী-২ আসন থেকে প্রার্থিতা করছেন।
জুনায়েদ আল হাবিব (২ লাখ ৪৬ হাজার)
এবারের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব প্রার্থী হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তার অফিসিয়াল পেজে ফলোয়ার সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার। পেজটি খোলা হয়েছে ২০১৫ সালের ১৩ মে।
জোনায়েদ সাকি (৩ লাখ ৩৫ হাজার)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। সামাজিক মাধ্যমে তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ফলোয়ার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৫ হাজার। পেজটি খোলা হয়েছে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর।
আরও পড়ুন: জমজমাট ডিজিটাল প্রচারণা, ফেসবুকে কোন দলের ফলোয়ার কত?
মামুনুল হক (৮ লাখ ৩২ হাজার)
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি ঢাকা-১৩ ও বাগেরহাট-১ আসনে নির্বাচন করছেন। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তার অফিসিয়াল পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ৮ লাখ ৩২ হাজার। পেজটি খোলা হয়েছে ২০১২ সালের ১৪ মার্চ।
নাহিদ ইসলাম (১.৩ মিলিয়ন)
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটি খোলা হয়েছে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যূত্থানের পরবর্তী সময়ে ছাত্র নেতাদের উদ্যোগে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি দ্রুত প্রথম সারির রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। এনসিপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটি ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি খোলা হয়েছে। পেজটিতে রয়েছে ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ফলোয়ার।
মো. নুরুল হক নুর (২.১ মিলিয়ন)
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটি খোলা হয়েছে ২০১৯ সালে ১ জুলাই। পেজটিতে রয়েছে ২ দশমিক ১ মিলিয়ন ফলোয়ার। গণ অধিকার পরিষদের রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত, কিন্তু সামাজিক আন্দোলন ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটি খোলা হয় ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর। বর্তমানে পেজটিতে রয়েছে ৯৯ হাজার ৮০০ ফলোয়ার রয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান (২.৩ মিলিয়ন)
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন। এটি খোলা হয়েছে ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটিতে রয়েছে ৩ মিলিয়ন ফলোয়ার।
আন্দালিব রহমান পার্থ (৩.২ মিলিয়ন)
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ভোলা-১ আসনে নির্বাচন করবেন। তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন। পেজটি খোলা হয়েছে ২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি।
তারেক রহমান (৫.৬ মিলিয়ন)
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটি খোলা হয়েছে ২০০৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন। সম্প্রতি তার পেজটি বিশ্বসেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তালিকায় স্থান পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণভিত্তিক ওয়েবসাইট সোশ্যাল ব্লেড প্রকাশিত শীর্ষ ১০০ ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় তার অবস্থান ৬৮ নম্বরে।
দেশে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটির বেশি; যা মোট জনসংখ্যার ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছেন প্রায় ৬ কোটি; টিকটক ব্যবহারকারী ৪ কোটি ৬০ লাখ এবং লিংকডইন ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী যথাক্রমে ৯৯ লাখ ও ৭৫ লাখ।
এই বিপুল ব্যবহারকারীর বড় অংশই তরুণ। তাদেরকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াকে ঘিরে নানা চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। কারণ এটি তুলনামূলকভাবে অনিয়ন্ত্রিত একটি মাধ্যম, যেখানে ভুয়া ফটোকার্ড, বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব ও ডিসইনফরমেশনের বিস্তার সহজেই ঘটে।