আজ আমাদের দুজনার দিন

চমক হাসান ও তার স্ত্রী ফিরোজা বহ্নি
চমক হাসান ও তার স্ত্রী ফিরোজা বহ্নি  © সংগৃহীত

এখন থেকে ঠিক এক যুগ আগে এক বিকেলে প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড় হচ্ছিল, তখন টিএসসি ডাস ক্যাফের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম তুমি আর আমি। বুয়েটে আমার চেনা-জানা মানুষ এত বেশি ছিল যে নিরিবিলি কথা বলা ছিল প্রায় অসম্ভব। সেজন্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া।

তোমাকে আসতে বলেছিলাম একটু কৌশল করে। তুমি জানতে আমি একজনকে ভালোবাসি, কিন্তু সেটা যে তুমিই, ওটা তুমি জানতে না। আমি অনুনয় করে বলেছিলাম, ‘‘আমি যাকে ভালোবাসি, আজ তাকে বলবো মনের কথা। বন্ধু হিসেবে তুমি কি সাহায্য করতে পারবে?’’

তুমি চলে এসেছিলে! তারপর ঝড়-বৃষ্টি শেষে আমরা ‘আমাদের জায়গাটায়’ বসেছিলাম। আমার বুকে ভয় ছিল- তুমি সায় দেবে কিনা। মোটামুটি নিশ্চিত ছিলাম- তুমি বলবে ‘আমি তো তোমাকে এভাবে ভাবিনি’। বিরাট একটা স্ক্রিপ্ট ছিল আমার। তুমি সেটা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলে... তারপর যখন বলেই ফেললাম, তুমি বললে, ‘আমি তো এভাবে ভাবিনি’, ঠিক যেমনটা আমি ভেবেছিলাম!

আরও পড়ুন: প্রথম প্রেম কেন ভোলা যায় না

তারপর আগে থেকে ঠিক করা অনেক কথা বোঝানোর চেষ্টা যখন করছিলাম, তুমি আমাকে থামিয়ে দিয়ে লাজুক হাসিতে তোমার চোখে চোখ রাখতে বলেছিলে। বলেছিলে, ‘তুমি বোঝো না?’’

আমি কিন্তু ঠিক বুঝে গিয়েছিলাম তখন। কিন্তু হাতে হাত রাখার সঙ্কোচ তখনও কাটেনি। এরপর এক রিকশায় চড়ার ছুতো খোঁজা। আর বলাকা চত্বরের কাছে এসে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সেই মুহূর্তটা...। তুমি আমার হাতটা ধরলে আর আকাশের মেঘটা সরে গিয়ে বিরাট বড় পূর্ণিমার চাঁদ হাসি দিল আমাদের দিকে।

‘‘মেঘের ওপারে চাঁদ ছিল খেয়ালী ভীষণ
আর ছিলও নীরবতা ভেঙে, শত জল্পনার ইতি টেনে
তোমায় ছুঁয়ে দেবার আয়োজন!’’   

তোমাকে নিয়ে আমার সাড়ে চার বছরের অনিশ্চিত একপাক্ষিক ভালোবাসাটা কী সুন্দর একটা গল্পে পরিণতি পেল। আজ সেই গল্পটার এক যুগ পূর্তি। অনেক অপেক্ষার পরে তোমায় পেয়েছি তো, ভালোবাসাটা পুরনো বানাতে পারি না কিছুতেই। এখনও মুগ্ধ হই প্রতিনিয়ত। প্রতিবার তুমি চোখে কাজল দিলে নতুন করে প্রেমে পড়ি...। ডুবে যাই আবেশে...। তুমিই যে আমার সেই ‘কল্পবাসী’, জানো তো? [ফেসবুক থেকে সংগৃহীত]


x